অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
বিরোধী রাজনৈতিক মত দমনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ভূমিকা নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম। তাঁর দাবি, বর্তমান আইজিপি যদি পূর্বসূরিদের মতো সরকারের তোষামোদ করে বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তাহলে তাঁর পরিণতি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের চেয়েও খারাপ হতে পারে।
শনিবার (২২ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বক্তব্যে পুলিশের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন সারজিস আলম।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সময় সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই সময় বর্তমান আইজিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়ে প্রতিবাদকারীদের বের করে দেওয়া হবে কি না—এমন বিষয়ে জানতে চান বলে দাবি করেন তিনি।
সারজিস আলমের ভাষ্য, একজন আইজিপি যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে বিরোধী মতের মানুষদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে তাঁর আচরণে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সময়কার মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়। এ ধরনের চাটুকারিতা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণেই পুলিশ একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার স্বাতন্ত্র্য, গৌরব ও মর্যাদা হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা বলেন, পুলিশের দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা সরকারের স্বার্থ রক্ষা করা নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বাহিনীটির মূল দায়িত্ব। কিন্তু রাজনৈতিক মতের কারণে কাউকে দমন বা হয়রানি করার প্রবণতা পুলিশের পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সারজিস। তাঁর অভিযোগ, যেসব ব্যক্তি প্রকৃত অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন, তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে যারা প্রকৃত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত, তারাই অনেক ক্ষেত্রে এসব মামলা দায়েরের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সরকারের ঘনিষ্ঠ হয়ে কাজ করা এবং বিরোধী মত দমনে ভূমিকা রাখা কর্মকর্তাদের পরিণতি এখন সবার সামনে। বর্তমান আইজিপি যদি একই পথে হাঁটেন, তাহলে ভবিষ্যতে তাঁর পরিণতি আরও কঠিন হতে পারে।
সারজিস আলমের বক্তব্যে পুলিশের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, বিরোধী মতের প্রতি আচরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

