বিশেষ প্রতিবেদন | হুদহুদ নিউজ
সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল করা হয়েছে। নতুন করে চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকজনের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। ফলে মন্ত্রিসভার আকার যেমন বেড়েছে, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও এসেছে পরিবর্তন।
নতুন এই রদবদলে স্থানীয় সরকার, তথ্য ও সম্প্রচার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন—এই চারটি মন্ত্রণালয়ে নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব পেয়েছেন। পাশাপাশি পররাষ্ট্র ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নতুন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন।
কে পেলেন কোন মন্ত্রণালয়
নতুন চার মন্ত্রীর মধ্যে ড. আবদুল মঈন খান পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
আন্দালিব রহমান পার্থ পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। সাচিং প্রু জেরিকে দেওয়া হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
আর এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত পেয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
এ ছাড়া হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বদলেছে আরও কয়েকজনের দায়িত্ব
শুধু নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ নয়, মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসও করা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জাহির উদ্দিন স্বপনকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আফরোজা খানম রিতাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ একই রদবদলের মধ্য দিয়ে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব এসেছে, আবার বিদ্যমান কয়েকজনের দায়িত্বও পরিবর্তন হয়েছে।
মন্ত্রিসভায় এখন ৫৫ সদস্য
নতুন নিয়োগ ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের পর সরকারের মোট মন্ত্রিসভা সদস্য দাঁড়িয়েছে ৫৫ জন। এর মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী এবং ২৭ জন প্রতিমন্ত্রী।
মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে মন্ত্রিসভায় এই পরিবর্তনকে তাই সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর একটি উল্লেখযোগ্য পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রদবদলের পেছনে কী কারণ
মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি হওয়া। তাঁর ছেড়ে দেওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. আবদুল মঈন খান।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও কিছুদিন ধরে শূন্য ছিল। সেখানে সাচিং প্রু জেরিকে নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফলে একদিকে শূন্য থাকা মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব এসেছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার কারণে খালি হওয়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও নতুন করে বণ্টন করা হয়েছে।
ছয় মাসেই এত পরিবর্তন, রাজনৈতিক আলোচনাও
সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হওয়া এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
তবে এই পরিবর্তনের প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ভর করবে নতুন দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং সরকারের নীতিগত ও প্রশাসনিক অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন, তার ওপর।
বিশেষ করে স্থানীয় সরকার, তথ্য ও সম্প্রচার, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে কী পরিবর্তন আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মন্ত্রিসভার এই রদবদল তাই শুধু নতুন কয়েকজন মুখ যুক্ত হওয়ার ঘটনা নয়; একই সঙ্গে এটি সরকারের দায়িত্ব বণ্টন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন সমীকরণের সূচনা করেছে। আগামী দিনের কার্যক্রমেই স্পষ্ট হবে, ছয় মাসের মাথায় করা এই পরিবর্তন সরকারকে কতটা কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে পারে।

