অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার মঞ্চে আবারও বাংলাদেশের পতাকা উড়েছে। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩ দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে লড়াই করে ১৫ পারা বিভাগে প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশের হাফেজ মো. নুরুদ্দিন জাকারিয়া। একই প্রতিযোগিতার ৩০ পারা বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন হাফেজ মাহমুদুল হাসান আশরাফী।
বাংলাদেশি দুই হাফেজের এই সাফল্যকে দেশের জন্য গৌরবের বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা বাড়ানো এসব তরুণ হাফেজকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করা প্রয়োজন।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে বরিশালের চরমোনাই জামেয়া রশিদিয়া আহসানাবাদে হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়ার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, বাংলাদেশের হাফেজরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজিত হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করে আসছেন। বিপুলসংখ্যক দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে তাঁদের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও সম্মানের।
তিনি বলেন, যারা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে দেশের নাম বিশ্বদরবারে তুলে ধরছেন, তাদের অর্জনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করা উচিত। এসব বিশ্বজয়ী হাফেজকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সাফল্য উদযাপনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নুরুদ্দিন জাকারিয়ার সাফল্যের খবর পেয়ে চরমোনাই পীর তাঁকে সংবর্ধনার জন্য আমন্ত্রণ জানান। তাঁর সঙ্গে উস্তাদ, আর রায়হান মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি কাইয়ুম মোল্লা এবং বাবা মাওলানা নুরুল আমিনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে তাঁদের সম্মানে চরমোনাই জামেয়া রশিদিয়া আহসানাবাদে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, প্রিন্সিপাল মুসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক হাসিব আর রহমানসহ চরমোনাই জামেয়ার শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই প্রতিযোগিতায় ৩০ পারা বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী হাফেজ মাহমুদুল হাসান আশরাফীকেও সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী বিভাগে সফল বাংলাদেশি প্রতিযোগীদের কাছেও সংবর্ধনাপত্র পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ।
বাংলাদেশের তরুণ হাফেজদের সাম্প্রতিক এই সাফল্য আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় দেশের ধারাবাহিক অর্জনেরই আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

