আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
দক্ষিণ লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান দাবি করেছে, লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করেছে।
শনিবার (২০ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানায়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ‘শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ প্রাথমিক জবাব।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যদি আগ্রাসন অব্যাহত থাকে, তাহলে পরিকল্পনা অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তেহরান মনে করছে, লেবাননে সাম্প্রতিক হামলাগুলো আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং পূর্ববর্তী সমঝোতার চেতনাবিরোধী।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে হওয়া সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজ ওই পথ ব্যবহার করেছিল। তবে নতুন ঘোষণার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও লেবাননের ভূখণ্ডে যেকোনো ইসরায়েলি অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে। গোষ্ঠীটির দাবি, দক্ষিণ লেবাননের একটি এলাকায় অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে।
হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে তা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটি বলেছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে নৌপথটি বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: এএফপি
আর/

