নথিতে ১১০, ক্লাসে মাত্র ২ জন—৩ লাখ টাকার মাসিক ব্যয়ে রাজারহাটের বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ

সরকারি বরাদ্দ ও বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে বড় ফারাক, শিক্ষক অনিয়ম ও ব্যবস্থাপনা শূন্যতায় শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন

by ABDUR RAHMAN
রাজারহাটের বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের তালতলায় অবস্থিত বিদ্যানন্দ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথিতে যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১০ জন দেখানো হয়েছে, বাস্তবে দুই দিনের সরেজমিন পর্যবেক্ষণে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত পাওয়া গেছে মাত্র ২ থেকে ৪ জন শিক্ষার্থী।

বিজ্ঞাপন
banner

বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪০ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ৪০ জন এবং অষ্টম শ্রেণিতে ৩০ জন শিক্ষার্থী নথিভুক্ত থাকলেও অধিকাংশ সময় শ্রেণিকক্ষ প্রায় ফাঁকা থাকে। এতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শিক্ষক উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। বর্তমানে বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহকারী কর্মরত থাকলেও আরও চারটি পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি গত দুই বছর ধরে কোনো পরিচালনা কমিটি না থাকায় প্রশাসনিক শূন্যতা আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। কেউ দেরিতে আসেন, আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান। এমনকি পাঠদানের বদলে অনেক সময় আড্ডা ও অনিয়মিত কার্যক্রমে সময় কাটানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে।

প্রধান শিক্ষক লোকনাথ বর্মণ অবশ্য দাবি করেন, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, আশপাশের নুরানি মাদ্রাসার প্রভাব এবং অভিভাবকদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহের কারণে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে। তবে তার দেওয়া শিক্ষার্থী সংখ্যার তথ্যেও অসংগতি পাওয়া গেছে। তিনি একদিকে ১০ জন শিক্ষার্থীর কথা বললেও উপবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২–১৩ জন বলে উল্লেখ করেন।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্যেও ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, সপ্তম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই। ষষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণিতে মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস চলে। অনেক সময় দুই–তিনজন শিক্ষার্থী নিয়েই পাঠদান হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শৃঙ্খলা ও তদারকির অভাব রয়েছে। এমনকি পরিদর্শনের সময় বাইরের শিক্ষার্থী এনে উপস্থিতি দেখানোর অভিযোগও উঠেছে। অভিভাবকদের অনেকে বাধ্য হয়ে সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন বলেও জানান স্থানীয়রা।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, বিদ্যালয়ে নথিভুক্ত শিক্ষার্থী সংখ্যা ১১০ হলেও বাস্তবে উপস্থিতি অত্যন্ত কম। বিষয়টি তারা গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং শিগগিরই পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে উপজেলা অতিরিক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, তারা দ্রুত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করবেন।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ