রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দের জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে দ্রুত প্রত্যাবাসনের দাবি পুনর্ব্যক্ত; মিয়ানমারেই সমাধান খোঁজার আহ্বান ঢাকার

by ABDUR RAHMAN
রোহিঙ্গাদের জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দের জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশে আরও জমি বরাদ্দের জাতিসংঘের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ঢাকা। সরকার জানিয়েছে, নতুন করে জমি বরাদ্দের এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। বরং রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ তার অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে যে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত।

এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) জাতিসংঘে মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী এই পরিস্থিতি দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তা খাতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও জাতীয় সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। তাই সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান এখন অত্যন্ত জরুরি।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক অংশীজনদের প্রতি কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়। প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। পাশাপাশি সংকটের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং মূল কারণগুলো সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে থেকেই বাংলাদেশে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল। পরবর্তীতে ওই বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর সেনা অভিযান শুরু হলে আরও প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ