আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটে নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যই এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। যে লাইটার বা ফ্যান স্বাভাবিক সময়ে অতি সাধারণ গৃহস্থালি সামগ্রী, সেগুলোই এখন অনেক মানুষের কাছে টিকে থাকার অন্যতম উপকরণ হয়ে উঠেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ১০ টাকা দামের একটি সাধারণ লাইটার গাজায় এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২০ শেকেল বা ৪০ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার টাকা। রান্নার গ্যাসের সংকট থাকায় অনেক পরিবার কাঠ, কাগজসহ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে রান্না করছে। ফলে আগুন জ্বালানোর জন্য লাইটারও সেখানে অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
লাইটার যেন এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য
গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে খাবার ও পানির মতো মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে আগুন জ্বালানোর উপকরণও মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামের অংশ হয়ে গেছে। রান্নার জন্য কাঠ বা কাগজ পোড়াতে হলেও আগুন ধরানোর উপায় না থাকলে সেই কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে সরবরাহ সংকটের কারণে সাধারণ একটি লাইটারের দাম কয়েক গুণ নয়, কয়েক শ গুণ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
তীব্র গরমে ভাঙা ফ্যানেরও আকাশছোঁয়া দাম
লাইটারের পাশাপাশি গাজার মানুষের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র গরম। তাবুতে বসবাসকারী মানুষের জন্য গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে। দিনের বেলায় এসব তাঁবু অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠায় সামান্য বাতাস পাওয়াও অনেকের কাছে স্বস্তির বিষয়।
কিন্তু বাজারে নতুন বৈদ্যুতিক ফ্যান পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি পুরনো বা ভাঙাচোরা ফ্যানের দামও প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে অনেক পরিবারকে বিকল্প উপায় বেছে নিতে হচ্ছে। মোহাম্মদ আবু এল এনালাইনের মতো বাবারা সন্তানদের স্বস্তি দিতে কাগজের টুকরো দিয়ে বাতাস করছেন কিংবা শরীরে পানি ছিটিয়ে কিছুটা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছেন।
ধ্বংসস্তূপ থেকে ফ্যান উদ্ধার করে মেরামত
গাজায় বাণিজ্যিক পণ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় কারিগরদের দাবি, গত প্রায় তিন বছর ধরে নতুন ফ্যানের মোটর ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ গাজায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া ফ্যান সচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফ্যান মেরামতের কারিগর মোহাম্মদ আবু আলওয়ান জানান, নতুন যন্ত্রাংশ না পাওয়ায় তারা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পুরনো ফ্যান খুঁজে বের করছেন। এরপর পাওয়া যন্ত্রাংশ জোড়াতালি দিয়ে কোনোভাবে সেগুলো সচল করার চেষ্টা করছেন।
স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পণ্যই এখন বেঁচে থাকার উপকরণ
গাজার বর্তমান মানবিক পরিস্থিতি শুধু খাদ্য ও চিকিৎসার সংকটেই সীমাবদ্ধ নেই। তাপ থেকে বাঁচার জন্য একটি ফ্যান কিংবা রান্নার আগুন জ্বালানোর জন্য একটি লাইটারের মতো সাধারণ পণ্যও এখন মানুষের জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
একদিকে সরবরাহ সংকটে এসব পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া, অন্যদিকে নতুন পণ্য ও যন্ত্রাংশের ঘাটতি পুরনো জিনিস মেরামতের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী খুঁজে নিয়ে জীবন চালানোর চেষ্টা করছেন গাজার বাসিন্দারা।
সূত্র: আল জাজিরা

