‘৫০১ হাসিনার ব্যর্থ প্রজেক্ট’: রয়েল রিসোর্ট ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ ব্যাখ্যায় মামুনুল হক

রয়েল রিসোর্টের ঘটনা, জান্নাত আরার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক, রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ, চরিত্রহননের অভিযোগ ও ‘৫০১’ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন তিনি

by ABDUR RAHMAN
রয়েল রিসোর্ট ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ ব্যাখ্যায় মামুনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক | হুদহুদ নিউজ

হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে ২০২১ সালের ৩ এপ্রিলের বহুল আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘ লিখিত বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি ঘটনাটিকে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের ‘রাষ্ট্রীয় মবসন্ত্রাস’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, তাকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ওই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি ‘৫০১’ প্রসঙ্গকে নিজের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণার ব্যর্থ প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন
banner

বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, ঘটনার দিন তিনি তার স্ত্রী জান্নাত আরাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি প্রচার করা হয়। তিনি দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হয়েছিল এবং তাকে ও তার স্ত্রীকে নানা ধরনের হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়।

জান্নাত আরার সঙ্গে নিজের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জান্নাত আরা পূর্বে তার এক সহকর্মীর স্ত্রী ছিলেন এবং পারিবারিকভাবে বিচ্ছেদের পর তাদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। পরবর্তীতে ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুসারে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, বিবাহের পর জান্নাত আরা কোরআন শিক্ষা ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন।

মামুনুল হক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, একাধিক বিয়ের বিষয়টি সামাজিক বাস্তবতা ও পারিবারিক জটিলতার কারণে তিনি প্রকাশ্যে আনেননি। তবে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি জানতেন এবং রয়েল রিসোর্টের ঘটনার সময় পুলিশ কর্মকর্তারাও তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পর তাকে বিভিন্নভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়। তার দাবি, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা ও সরকারি মহলের পক্ষ থেকে তাকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ও ইসলামী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে আরও চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তব্যে জান্নাত আরার বর্তমান অবস্থান নিয়েও কথা বলেন মামুনুল হক। তিনি জানান, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় ছিল। তবে পরবর্তীতে পারস্পরিক মতপার্থক্যের কারণে আলোচনার মাধ্যমে তারা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত তিনি জান্নাত আরার ভরণপোষণ ও অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করেছেন বলেও দাবি করেন।

চরিত্রহননের অভিযোগ তুলে মামুনুল হক বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আদর্শিক বিরোধের কারণে অনেকেই রয়েল রিসোর্টের ঘটনাকে ব্যবহার করে তাকে হেয় করার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেন, আদালত, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়েছে। তবে এসব চাপ ও বিতর্ক সত্ত্বেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি বলে উল্লেখ করেন।

‘মুতা বিয়ে’ বা ‘চুক্তিভিত্তিক বিয়ে’ প্রসঙ্গেও বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। তার দাবি, তার বিবাহ ছিল সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত এবং এ বিষয়ে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তব্য ও সংবাদ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, একজন তালাকপ্রাপ্ত নারীকে বিয়ে করাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তিনি অন্যায় বলে মনে করেন।

দীর্ঘ বক্তব্যের শেষ অংশে ‘৫০১’ প্রসঙ্গ তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে পরিচালিত ষড়যন্ত্রের ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘৫০১’ তার নয়, বরং শেখ হাসিনা সরকারের ব্যর্থ প্রচেষ্টার স্মারক। ভবিষ্যতেও এ বিষয়ে নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ