পশ্চিম তীরে ২০২৫ সালে ৫৪ ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী: বি’তসেলেম

১৯৬৭ সালের পর শিশু নিহতের হার সর্বোচ্চ, জবাবদিহি না থাকার অভিযোগ মানবাধিকার সংস্থার

by ABDUR RAHMAN
পশ্চিম তীরে ২০২৫ সালে ৫৪ ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ২০২৫ সালে ৫৪ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী—এমন তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম।

বিজ্ঞাপন
banner

সংস্থাটি বলছে, ১৯৬৭ সালে অঞ্চলটি দখলের পর থেকে শিশু নিহতের হার এবারই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে প্রতি চারজনের একজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বি’তসেলেম জানায়, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর জবাবদিহি হয়নি এবং কোনো অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্যও পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের মৃত্যু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি কাঠামোগত নীতির ফল, যেখানে গুলি চালানোর নিয়ম শিথিল করা হয়েছে এবং সেনাদের প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারে কার্যত ছাড় দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, পশ্চিম তীরে শিশু ও কিশোরদের ব্যাপক মৃত্যু এমন একটি নীতির ফল, যেখানে জবাবদিহি প্রায় অনুপস্থিত এবং হত্যার ক্ষেত্রে কার্যত দায়মুক্তি তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামরিক কমান্ডারদের বক্তব্য ও নীতি এমন একটি ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে, যেখানে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

চলতি বছরের শুরুতে পশ্চিম তীরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরায়েলি সামরিক কমান্ডার আভি ব্লুথ একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বলেন, সেনাবাহিনী এমন মাত্রায় ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে, যা ১৯৬৭ সালের পর দেখা যায়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শিথিল গুলি চালানোর নিয়ম কার্যকর রয়েছে, যার ফলে নিরস্ত্র ব্যক্তিদের ওপরও প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি বৈষম্যমূলক নীতির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, পাথর নিক্ষেপকারী ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও একই ধরনের ঘটনায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওচা)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমে ১ হাজার ১০৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২৪২ জন শিশু।

বি’তসেলেম জানায়, তাদের নথিভুক্ত অনেক ঘটনায় দেখা গেছে, আহত শিশুদের কাছে জরুরি চিকিৎসা পৌঁছাতে দেরি করা হয়েছে বা বাধা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

সংস্থাটি আরও দাবি করে, নিহতদের মরদেহ দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করার ঘটনাও রয়েছে। ২০২৫ সালে নিহত অন্তত ১৮ শিশুর মরদেহ এখনো আটক অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিকে গাজা উপত্যকার চলমান সহিংসতা থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। সংস্থাটির মতে, গাজায় বৃহৎ পরিসরে সহিংসতার প্রভাব পশ্চিম তীরেও পড়ছে।

বি’তসেলেম আরও দাবি করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর জবাবদিহির অভাবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনি শিশুদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, যতদিন দায়মুক্তি অব্যাহত থাকবে, ততদিন শিশুদের জীবনসহ ফিলিস্তিনিদের জীবন নিরাপদ থাকবে না।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ