অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মানবিক কারণ বিবেচনায় দ্রুত আদ্-দ্বীন হাসপাতাল চালুর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হাসপাতালটি বন্ধ রাখার ফলে শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
তিনি বলেন, আদ্-দ্বীন একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এর সঙ্গে প্রায় ৭৫০ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী এবং প্রায় সমসংখ্যক নার্সিং শিক্ষার্থীর ব্যবহারিক শিক্ষা জড়িত। কেবল বই পড়ে চিকিৎসক বা নার্স হওয়া সম্ভব নয়। তাই হাসপাতাল বন্ধ রাখার আগে শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বা দুর্বলতা থাকলে অবশ্যই তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে সেই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়াশোনার আগ্রহও কমিয়ে দিতে পারে।
স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়—সবখানেই অবকাঠামো, জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। তাঁর মতে, নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরির আগে বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভিন্ন আচরণেরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কঠোরতা থাকলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। অপরাধ যেখানেই ঘটুক, সবার জন্য একই মানদণ্ড প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
বাজেটে প্রবাসী কর্মীদের জন্য কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় একটি সর্বদলীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রশংসা জানিয়ে তিনি গুম, খুন ও রাজনৈতিক সহিংসতার সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টনের ঘটনায় নিহতদের বিচারিক মূল্যায়নের আহ্বানও জানান।
নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫-এর পানি সংকট, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ধীরগতির নির্মাণকাজ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা, ভোলা সেতু নির্মাণ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়েও সংসদে বক্তব্য দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, দেশের মানুষ নামের নয়, কাজের উন্নয়ন দেখতে চায়।
আর/

