অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের এক দরিদ্র নারীর নামে চলতি মাসে প্রায় আড়াই কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল ইস্যু হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি মাসে যেখানে তার পরিবারের বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে থাকত, সেখানে এবার বিলে পরিশোধযোগ্য অর্থ দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৩৫ হাজার ১০৪ টাকা।
হঠাৎ এত বড় অঙ্কের বিল হাতে পেয়ে হতবাক হয়ে পড়েন ওই নারী ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, বিলটি দেখে প্রথমে কী করবেন বুঝে উঠতে পারেননি। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিলের কপির ছবি ভাইরাল হয়ে যায়।
একটি দরিদ্র পরিবারের নামে কীভাবে এমন অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল তৈরি হলো, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয়দের অনেকে বিল প্রস্তুত ও তথ্য যাচাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি তথ্য এন্ট্রির সময় হওয়া একটি সংখ্যাগত ভুল। কম্পিউটারে তথ্য ইনপুট দেওয়ার সময় ভুলবশত এই অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, “কম্পিউটারে তথ্য ইনপুট দেওয়ার সময় ভুল হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই বিলটি সংশোধন করা হয়েছে। গ্রাহকের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাকে প্রকৃত বিলই পরিশোধ করতে হবে।”
তবে এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, এ ধরনের ভুলের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের অযথা মানসিক চাপ ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে বিল প্রস্তুতের আগে আরও কঠোর যাচাই-বাছাই ও তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আর/

