আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী বক্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্পের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার জবাব দিতে গিয়ে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তেহরান বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস ছড়ায় না, বরং ইরান নিজেই সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসবাদের শিকার। নিজের পূর্বপ্রস্তুতকৃত ভাষণ পাশে সরিয়ে রেখে তিনি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানি শিশু, সাধারণ নাগরিক এবং ধ্বংসস্তূপের চিত্র বিশ্বনেতাদের সামনে উঁচিয়ে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণকে রক্ষা করতে ইরান কারও অনুমতির তোয়াক্কা করবে না।
ভাষণের শুরুতেই পেজেশকিয়ান ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সাম্প্রতিক হামলায় প্রাণ হারানো শিশুদের ছবি প্রদর্শন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো আইনি কারণ বা ভিত্তি ছাড়াই খামেনিকে হত্যা করা হয়েছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি অস্ত্রের আঘাতে মিনাব শহরের একটি স্কুলের শিক্ষার্থী এবং লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া ভবনে খেলায় মগ্ন শিশুদের ওপর বর্বরোচিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিবরণ দিয়ে তিনি বিশ্বমঞ্চে প্রশ্ন তোলেন—এদের কী অপরাধ ছিল? বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে নিরপরাধ নারী-পুরুষের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগীরা উল্টো ইরানকে সন্ত্রাসী বানাচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পেজেশকিয়ান যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন মার্কিন প্রতিনিধিদলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।
পশ্চিমা নীতি ও নিষেধাজ্ঞার দ্বিমুখী আচরণের কঠোর সমালোচনা করে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, তেহরান গত ২০০ বছরে কোনো দেশে আগ্রাসন চালায়নি। অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পরাশক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে ইরান কেবল আত্মরক্ষা করেছে। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও নাগরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হলেও জবাব দিতে গিয়ে ইরান কখনোই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আসল শিকার সেখানকার সুবিধাবঞ্চিত, দরিদ্র ও অসুস্থ সাধারণ মানুষ, যাদের বলির পাঁঠা বানিয়ে ওয়াশিংটন অবৈধ উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেজেশকিয়ান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তেহরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দৌড়ে নেই, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ‘অন্তর্নিহিত অধিকার’ থেকে পিছু হটবে না। একইসঙ্গে ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা ও গাজায় ৭০ হাজারেরও বেশি মানবের প্রাণহানি নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতার সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি স্পষ্ট জানান, ইরান শক্তি চায় অগ্রগতির জন্য, অন্য সমাজকে হুমকি দেওয়ার জন্য নয়। তবে নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য ইরান কারো কাছে হাত পাতবে না বা কারও অনুমতি নেবে না।
সূত্র: রয়টার্স ও আল জাজিরা

