কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় জাবির চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসে হল প্রশাসন; গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি।

by ABDUR RAHMAN
কালেমা খচিত পতাকা টানানোর ঘটনায় জাবির চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একটি আবাসিক হলের বারান্দায় কালেমা খচিত সাদা-কালো পতাকা টানানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চার আবাসিক শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে হল প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন
banner

হল প্রশাসন জানায়, গত ২৭ জুন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের তৃতীয় তলার ‘এ’ ব্লকের ৩০২ নম্বর কক্ষের বারান্দায় পতাকাটি টানানো হয়েছিল। পরে এর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপরই প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) হলের ওয়ার্ডেন ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মীর ফেরদৌস হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে চার শিক্ষার্থীকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন ওয়ার্ডেন উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল এবং ড. সাহাদাত হোসেন।

শোকজপ্রাপ্তরা হলেন লোক প্রশাসন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের মোহাম্মদ রাকিব, রসায়ন বিভাগের ৫২তম ব্যাচের গিয়াসউদ্দিন সুমন, রসায়ন বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের আরিফ হাসনাত (শামীম) এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের সাদ আব্দুর রহমান। তারা ৩০২ নম্বর কক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাদ আব্দুর রহমান এখনও ওই কক্ষে ওঠেননি বলে জানা গেছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, কক্ষটির আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে এ ঘটনার দায় তারা এড়িয়ে যেতে পারেন না। তাদের আগামী ৫ জুলাই সকাল ১০টার মধ্যে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের কার্যালয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে হবে।

শোকজপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, কক্ষের এক শিক্ষার্থী ধর্মীয় অনুভূতি থেকেই পতাকাটি টানিয়েছিলেন। এটি নিয়ে এত বড় আলোচনা বা বিতর্ক তৈরি হবে, এমনটি তারা ভাবেননি। পরে একটি ফেসবুক পেজে পতাকার ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসনের নজরে আসে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমোদনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারকারীদের বক্তব্যও নেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ