আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থল অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়ে ২৯ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তান। দেশটির সরকার বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, নির্ভুল বিমান হামলায় আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে টিটিপির কথিত তিনটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযানের লক্ষ্য ছিল তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘাঁটি ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেছেন, পাকিস্তানের হামলায় অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে বন্দুক ও বিস্ফোরক নিয়ে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি। ওই হামলায় তিন সেনাসদস্য নিহত হন। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, তিন হামলাকারী নিহত হয়েছেন এবং আহত অবস্থায় আটক আরেকজন আফগান নাগরিক।
পরে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) থেকে বিচ্ছিন্ন সংগঠন জামাত-উল-আহরার করাচির হামলার দায় স্বীকার করে। পাকিস্তান বলছে, সাম্প্রতিক সীমান্ত অভিযানও এসব হামলার জবাব হিসেবেই পরিচালিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার সংখ্যা বেড়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, এসব হামলার জন্য টিটিপি ও তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দায়ী। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার শুরু থেকেই টিটিপিকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) ও আফগান তালেবান পৃথক দুটি সংগঠন হলেও তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২১ সালে আফগান তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে কাবুল ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সর্বশেষ সীমান্ত অভিযান দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সীমান্তজুড়ে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একাধিক দফা আলোচনা হলেও এখনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি।
এপ্রিল মাসে চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেইজিং জানায়, উভয় পক্ষ উত্তেজনা না বাড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে সম্মত হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আর/

