আল-আকসা মসজিদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ‘নতুন বন্দোবস্ত’ পরিকল্পনার অভিযোগ, জর্ডানের ভূমিকা নিয়ে উত্তেজনা

জুমার খুতবার অনুমোদন পর্যন্ত ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব; জর্ডানের কাস্টোডিয়ানশিপ সরাতে সক্রিয় তৎপরতার অভিযোগ

by ABDUR RAHMAN
আল-আকসা মসজিদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ‘নতুন বন্দোবস্ত’ পরিকল্পনার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সের বর্তমান তদারকি কাঠামো পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘সক্রিয়ভাবে কাজ করছে’ বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জর্ডানের ঐতিহাসিক কাস্টোডিয়ানশিপ বা তদারকির ভূমিকা সীমিত বা বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (এমইই) একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, নতুন একটি বন্দোবস্তের মাধ্যমে আল-আকসা মসজিদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধাপে ধাপে ইসরায়েলি কাঠামোর অধীনে আনার চেষ্টা চলছে।

সূত্রগুলোর দাবি, পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদের পবিত্র এই স্থানের ব্যবস্থাপনাকে এমনভাবে পুনর্গঠন করা, যাতে তা ইসরায়েলি স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় জর্ডান সমর্থিত ইসলামিক ওয়াকফের বর্তমান কর্তৃত্ব বাতিল করে ইসরায়েল সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হতে পারে।

এই কাঠামোতে আল-আকসাকে ‘বহু-ধর্মীয় কেন্দ্র’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে, যেখানে ইসলাম, খ্রিস্টান ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের জন্য সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাব থাকবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, নতুন ব্যবস্থায় শুধু প্রবেশাধিকার নয়, বরং উপাসনার সুযোগও পুনর্গঠিত হতে পারে, যা ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের শামিল হবে।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভবিষ্যতে ইমাম, খতিব ও অন্যান্য প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এমনকি শুক্রবারের জুমার খুতবায় কী বলা হবে, সেটির অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইসরায়েল জড়িত থাকবে।

একাধিক মার্কিন ও আরব সূত্র এমইইকে জানিয়েছে, এই পরিকল্পনার একটি খসড়া ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে আল-আকসার বর্তমান মুসলিম পরিচয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।

সূত্রগুলোর দাবি, প্রাথমিকভাবে ইসরায়েল প্রায় এক দশক আগে এই ধারণা সামনে আনে। পরে প্রশাসনিক পর্যায়ে এটি পুনরায় সক্রিয় করা হয়।

আরও বলা হয়েছে, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী কিছু আরব দেশকে পর্যায়ক্রমে আল-আকসা কমপ্লেক্সের তদারকিতে যুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। বাহরাইন, মিসর, মরক্কো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জর্ডানের ঐতিহাসিক অবস্থানকে আন্তর্জাতিক চুক্তি ও ১৯৯৪ সালের শান্তিচুক্তির ভিত্তিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই চুক্তিতে আল-আকসায় আম্মানের বিশেষ ভূমিকা স্বীকৃত ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কাঠামো পরিবর্তনের চেষ্টা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

জর্ডানি ও ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো বলছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থার মৌলিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে।

অন্যদিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, হোয়াইট হাউস জর্ডানের তদারকি ভূমিকা বাতিলের জন্য কোনো সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্লেষকদের মতে, আল-আকসার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেকোনো পরিবর্তনের চেষ্টা অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ