মামলা না নেওয়ার অভিযোগে থানার সামনে অবস্থান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

ঝিনাইদহে হামলার ঘটনায় উত্তেজনা; রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এনসিপি

by ABDUR RAHMAN
মামলা না নেওয়ার অভিযোগে থানার সামনে অবস্থান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ঝিনাইদহে ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় মামলা গ্রহণে গড়িমসির অভিযোগ তুলে সদর থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

বিজ্ঞাপন
banner

শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে থানার সামনে অবস্থান করছিলেন।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে এনসিপি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে কথা বলতে যান। কথোপকথনের একপর্যায়ে সাহেদের পেছন দিক থেকে কয়েকজন যুবক পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন। এরপর উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে লিখিত অভিযোগ দিতে ঝিনাইদহ সদর থানায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় থানার বাইরে এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, আইনমন্ত্রী ও ঝিনাইদহ বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদের অনুসারীরাই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, “তারা ডিম নিক্ষেপ করেছে। আমাদের ৩ থেকে ৪ জন আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার চাই।” একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

তবে হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ। তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিভিন্ন জেলায় বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম নিক্ষেপ করে। মারামারি বা হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে এনসিপি। মিছিলে নেতৃত্ব দেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া। বিক্ষোভে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই বিএনপির সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

অন্যদিকে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও পৃথক ফেসবুক পোস্টে হামলার জন্য বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করেন। সারজিস আলম দাবি করেন, হামলায় কয়েকজন রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, সার্ভার ডাউন থাকায় অভিযোগ গ্রহণে বিলম্ব হয়েছে। তবে সার্ভার সচল হলেই অভিযোগ অনলাইনে এন্ট্রি করা হবে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ