অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
দেশে খুন, ধর্ষণ ও নাগরিক নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর জনগণ আশা করেছিল পরিস্থিতির উন্নতি হবে, কিন্তু বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজনীতি শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের একটি মাধ্যম। ওয়ার্ড, থানা কিংবা মহল্লা পর্যায়ে রাজনীতি করে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা না গেলে সেই রাজনীতির কোনো মূল্য থাকে না। তিনি বলেন, এনসিপি নগর রাজনীতিকে শুধু ক্ষমতার রাজনীতি হিসেবে নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার মাধ্যম হিসেবে দেখে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাঝে মাঝে মনে হয় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির ভূমিকায় বেশি আছেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
সম্প্রতি ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, “গলাকেটে হত্যা এখন যেন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।” এসব ঘটনার পেছনে কোনো অভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বলা হয়েছিল নির্বাচিত সরকার না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং আরও খারাপ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ কতদিন সহ্য করবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে তরুণ প্রজন্ম রাজপথে নামতে বাধ্য হয়।
ঝিনাইদহে এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ স্থানীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে হামলার যে সংস্কৃতি ছিল, সেটি আবার ফিরে আসছে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে সহিংসতাকে কৌশল হিসেবে নেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সরকার যদি ভায়োলেন্সকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নিতে চায়, তাহলে এটা আমাদের চেয়ে বেশি কেউ পারবে না। ২০২৪ সালে আমরা সেটা দেখিয়েছি।” হামলার ঘটনায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে রাতের মধ্যেই গ্রেপ্তার করার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় ভিন্ন পথ বেছে নিতে বাধ্য হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপিকে উদ্দেশ করে কড়া বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, “আপনারা যদি চান তারেক রহমানকে নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারবেন না, তাহলে ঘোষণা দিয়ে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসন কায়েম করুন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তারেক রহমানের পরিকল্পনা যদি ছাত্রসংগঠনের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। নামাজের পর আওয়ামী লীগের মতো কায়দায় হামলা চালানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আর/

