‘শাপলার শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়া হোক’ —আল্লামা মামুনুল হক

‘সরকার দায়িত্ব নেবে’ —তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

by ABDUR RAHMAN
‘শাপলার শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়া হোক’ —আল্লামা মামুনুল হক

শাপলা স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত “শাপলার শহীদগাঁথা” শীর্ষক স্মরণ ও মূল্যায়ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ‘শাপলা স্মৃতি প্রতিযোগিতা-২০২৬’ এর সাত বিভাগে বিজয়ী ১১০ জন প্রতিযোগীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ‘তেরো থেকে শাপলা: শাহাদাতের সিলসিলা’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এসময় বক্তারা ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত শাপলা গণহত্যার বিচার, সত্য উদ্ঘাটন এবং শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমি আবারও স্পষ্ট করে বলতে চাই—এই শহীদরা শুধু কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ছিলেন না। তাদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। বিএনপির কর্মী ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন, জাতীয় পার্টির কর্মী ছিলেন, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। এটি ছিল প্রকৃত অর্থেই একটি সর্বজনীন আন্দোলন।

বিজ্ঞাপন
banner

তিনি আরো বলেন, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছেও হেফাজতের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধি দল নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি—আমরা টাকা চাই না, অর্থ চাই না। আমরা চাই, রাষ্ট্র স্বীকার করুক যে শাপলার শহীদরা বাংলাদেশের ইসলামী ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার জন্য অসামান্য ত্যাগ ও কোরবানি দিয়ে গেছেন। আমরা চাই শাপলার শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মাননা দেওয়া হোক।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনঅনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, “এই নেক্কারজনক ঘটনার সময় বেগম খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছিলেন। তিনি দুই দিনের হরতালের ডাক দিয়েছিলেন, যা অন্য কোনো রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক দল দিতে পারেনি।”

 

তিনি আরও বলেন, “বিগত ১২টি নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন ছিল অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু। এই নির্বাচনে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শাপলা শহীদদের স্মরণ করেছেন। সংসদে আমরা যে কারণে শাপলার শহীদদের স্মরণ করেছি, সেই কারণেই শহীদদের ব্যাপারে পরবর্তী দায়িত্বও আমরা গ্রহণ করব।”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “পাঁচই মে শাপলা আন্দোলন ছিল একটি ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক। সে সময় আমি কারাগারে বন্দি ছিলাম। ঢাকায় যখন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছিল, তখন আমাকে খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। কারাগারে বসে রেডিওতে আমি সেদিনের সংবাদ শুনেছি।”

তিনি বলেন, “সৈয়দ আশরাফ যখন হেফাজতকে রাস্তা ছাড়ার কথা বলেছিলেন, তখন মাওলানা মামুনুল হকের অগ্নিগর্ভ বক্তব্য আমি রেডিওতে শুনেছিলাম। অন্যদিকে শেখ হাসিনা শাহবাগপন্থীদের উস্কে দিয়েছিলেন। ৫ মে’র সমাবেশ কোনো দলের ছিল না; দেশপ্রেমিক সর্বস্তরের মানুষ সেখানে অংশ নিয়েছিল।”

এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, “আমরা আমাদের জাতীয় পীর ও আলেমদের কীভাবে সম্মান করি, তার উপর জাতীয়তার ভিত্তি নির্ভর করে। ২০১৩, ২০২১ ও ২০২৪—প্রতিটি সংকটে আলেম-ওলামারা দেশের জন্য জেগে উঠেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা শহীদদের যথাযথ সম্মান দিতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতের সংকটে কেউ জীবন উৎসর্গে এগিয়ে আসবে না।”

 

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “তের দফার সাথে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দাবি উত্থাপন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। এই দাবিকে কেন্দ্র করে যে নির্মম দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে, তা ছিল গণতন্ত্রবিরোধী।”

তিনি আরও বলেন, “সেদিন ভোরের আগেই পুরো ঢাকা পরিষ্কার করে ফেলা হয়েছিল। সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। মিডিয়ার একটি অংশও সত্যের পক্ষে নয়, বরং আওয়ামী লীগের দালালি করেছে।”

তিনি সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “ওলামায়ে কেরামকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে। গেরুয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে এবং সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, শায়খ মুসা আল হাফিজ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, সংসদ সদস্য মাওলানা সাইদ উদ্দীন আহমাদ হানজালা, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সেক্রেটারি মুফতি রেজাউল করীম আবরার, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, ড. সরোয়ার হুসাইন, শাপলা স্মৃতি সংসদের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, সহ-সভাপতি মাওলানা ইলিয়াস হামিদী এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বিশিষ্ট সাংবাদিক ফরিদী নোমান, লেখক ও এক্টিভিস্ট রুহুল আমিন সাদী, ইফতেখার জামীল প্রমুখ।

এমপি মাহবুবা হাকিম বলেন, “মানুষ শাপলা গণহত্যার বিচার চায়। শাপলা গণহত্যার বিচার ও ডকুমেন্টেশন একসাথেই এগোতে হবে। ডকুমেন্টেশন আর বিচার—দুটো পাশাপাশি চললেই শাপলার দায় পূর্ণতা পাবে।”

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ