কুরবানীর পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী চামড়া শিল্প রক্ষার দাবিতে রাজধানীতে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজধানীর তোপখানা রোডস্থ “শিশু কল্যাণ পরিষদ কনফারেন্স মিলনায়তনে” বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় এ সভার আয়োজন করে “চামড়া শিল্প রক্ষা কমিটি”।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি ও চামড়া শিল্প রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কমিটির সদস্য সচিব মুফতী আফজাল হুসাইন।

সভায় বক্তব্য রাখেন মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী, মাওলানা মীর ইদরীস, মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা ড. শোআইব আহমদ, মাওলানা রুহুল আমিন সাদী, মাওলানা আতাউর রহমান আতিকী, মাওলানা মুফতি জোবায়ের গণী, মুফতি ইমরানুল বারি সিরাজী, মাওলানা আব্দুল গাফফার, মাওলানা তাওহিদুল হক, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, এডভোকেট শফিকুর রহমান, মাওলানা মুফাজ্জল বিন মাহফুজ, মুফতি মাছুম বিল্লাহ, এডভোকেট মোস্তফা জামান ভুঁইয়া, জনাব আমির আলী হাওলাদার, আব্দুল্লাহ আল নোমান ও রাকিবুল হাসানসহ দেশের বিশিষ্ট আলেম, মুফতি, ইসলামী চিন্তাবিদ, সাংবাদিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কুরবানীর পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ী, মাদরাসা-এতিমখানা ও সাধারণ মানুষ চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের চামড়া শিল্পও গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছে।
তারা বলেন, সরকারিভাবে কার্যকর মূল্য নির্ধারণ, চামড়া সংরক্ষণে সহায়তা এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ শিল্পকে রক্ষা করা জরুরি। অন্যথায় দেশের সম্ভাবনাময় চামড়া খাত আরও বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
সভায় বক্তারা চামড়া শিল্প রক্ষায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—
১. সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মূল্য বাস্তবায়নে কার্যকর মনিটরিং টিম গঠন,
২. সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ,
৩. পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ ও স্বল্পমূল্যে বিতরণের মাধ্যমে চামড়া সংরক্ষণ নিশ্চিত করা,
৪. ট্যানারি শিল্পের আধুনিকায়ন ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা চালু করা,
৫. চামড়া রপ্তানির জটিলতা কমিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ,
৬. এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন।
সভায় উপস্থিত বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশের চামড়া শিল্প পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে এবং কুরবানীর চামড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট দূর হবে।

