অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় নতুন রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দেলোয়ার হোসেন (৩২) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের তুলাতুলী গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার স্থানীয় সাংবাদিক বাতেন মৃধার ছোট ভাই এবং আব্দুল মৃধার ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রামবাসীর উদ্যোগে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের বাড়ির পাশ দিয়ে একটি কাঁচা রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছিল। রাস্তার একটি অংশ সাংবাদিক বাতেন মৃধার জমির ওপর দিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাছির উদ্দিন মেম্বারের পক্ষের সঙ্গে কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
বিরোধ মীমাংসার জন্য শুক্রবার রাতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে বাতেন মৃধার পক্ষের কেউ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
সালিশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভুট্টাক্ষেতের কাছে হামলার শিকার হন চন্দনপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য নাছির উদ্দিন। তাকে উদ্ধার করতে গেলে তার শ্যালক হালিমও আহত হন। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
একই রাতে পুরোনো বাড়ি থেকে নতুন বাড়িতে যাওয়ার সময় দেলোয়ার হোসেন প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর চিকিৎসক রাত ৪টার দিকে দেলোয়ার হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাতেন মৃধার পক্ষের আব্দুল আজিজ ও কামাল এবং অপর পক্ষের নাছির উদ্দিন ও তার শ্যালক হালিম। তাদের কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, সংঘর্ষের পর বাতেন মৃধার বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে নাছির উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মেঘনা থানার ওসি (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আর/

