সংসদে ‘হুমকির ভাষা’ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া: আঘাত পেয়েছে বিরোধীদল

অসংসদীয় বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি, বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস স্পিকারের

by ABDUR RAHMAN
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

জাতীয় সংসদে এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, সংসদে দাঁড়িয়ে হুমকির ভাষায় কথা বলা হয়েছে, যা তাদেরকে আঘাত করেছে এবং সংসদীয় আচরণের পরিপন্থী।

বিজ্ঞাপন
banner

বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সময় এ ঘটনা ঘটে। বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়া বক্তব্য দেওয়ার সময় এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা বিরোধীদলের কাছে ‘হুমকিসূচক’ হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “একজন সংসদ সদস্য সংসদে দাঁড়িয়ে যে হুমকির ভাষায় কথা বলেছেন, তাতে আমরা আঘাত পেয়েছি। আমরা এর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “জনগণ বসে থাকবে না—এই ধরনের বক্তব্যের অর্থ কী? তিনি কি জনগণকে বিশৃঙ্খলার দিকে উসকে দিচ্ছেন?” তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য সংসদীয় শালীনতার পরিপন্থী এবং তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া উচিত।

বিরোধীদলীয় নেতা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং তা সংসদের রেকর্ড থেকে অপসারণ করতে হবে। তিনি স্পিকারের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে। যদি কোনো অসংসদীয় ভাষা পাওয়া যায়, তাহলে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সংসদ সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার সময় একে অপরকে বিরক্ত না করার আহ্বান জানান।

স্পিকার আরও বলেন, “আমরা চুপ করে থাকবো না—এই ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে কেউ যদি সীমা অতিক্রম করেন, তা অবশ্যই পর্যালোচনা করা হবে।”

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে মতবিরোধ নতুন কিছু নয়, তবে ভাষার ব্যবহারে সংযমের অভাব পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদ হলো গণতান্ত্রিক আলোচনার সর্বোচ্চ মঞ্চ। এখানে ব্যবহৃত ভাষা ও আচরণ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রতিফলিত করে। তাই সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে শালীনতা বজায় রাখা জরুরি।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে, নির্বাচনমুখী রাজনীতির কারণে সংসদের ভেতরে ও বাইরে উত্তেজনা বাড়ছে। এ অবস্থায় সংলাপ ও সহনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ