লেবানন-ইসরাইল দ্বিতীয় দফা আলোচনা বৃহস্পতিবার: যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন আশা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি সংলাপ; হিজবুল্লাহর আপত্তি, তবুও আলোচনায় অনড় লেবানন সরকার

by ABDUR RAHMAN

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনা আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এ সংলাপ আয়োজন করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং পরিস্থিতি আরও অবনতির হাত থেকে রক্ষা করা।

বিজ্ঞাপন
banner

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। গত ১৪ এপ্রিল শুরু হওয়া প্রথম দফার বৈঠককে ‘গঠনমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে প্রথম সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক।

সম্প্রতি হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়তা করেছে। তবে এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ সীমিত হওয়ায় তা আরও বাড়ানো সম্ভব কি না— সেটিই এখন আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার সরকার কূটনৈতিক পথেই এগোতে চায়। তিনি বলেন, এই আলোচনা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের স্বার্থে একটি দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। ইতোমধ্যে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য একজন প্রতিনিধি নিয়োগও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, এই সংলাপকে ভালোভাবে দেখছে না লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির প্রধান নাঈম কাসেম এই উদ্যোগকে ‘পরাজয়মূলক ছাড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা লেবাননের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে এবং এটি ফলপ্রসূ হবে না।

হিজবুল্লাহ আরও মনে করে, এই আলোচনা বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনীতির সঙ্গে, বিশেষ করে ইরানের ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত করা হলে লেবাননের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারত। তারা সরাসরি আলোচনার পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় মধ্যস্থতা এই আলোচনাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রথম দফার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ এবং ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার অংশ নেন। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও রাজনৈতিক বিভাজন ও আঞ্চলিক শক্তির প্রভাব এই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে, তবুও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ