সংসদে বড় কেলেঙ্কারি? ৫৮ লাখ টাকার ক্যামেরা কেনায় উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ

ব্যাগ, ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনায় অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত—সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন

by ABDUR RAHMAN
জাতীয় সংসদ

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত দুই মাসে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার নামে অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

সূত্র বলছে, নতুন সংসদের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা হলেও সেগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক বেশি দাম দেখানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে একটি ব্যাগের মূল্য ৩৪ হাজার টাকা দেখানো হলেও এর বাজারমূল্য প্রায় ৪ হাজার টাকার মতো বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া সংসদে এমপি ও মন্ত্রীদের ছবি তোলার জন্য চারটি ক্যামেরা কেনায় মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৫৮ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই ধরনের সরঞ্জামের বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার মধ্যে হওয়া সম্ভব। এমনকি ব্যবহৃত পণ্যগুলো মানসম্মত ব্র্যান্ডের নয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ক্যামেরার একটি লেন্স কেনার ক্ষেত্রে ৬ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হলেও বাজারমূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো বলে জানা গেছে। একইভাবে ১০টি মেমোরি কার্ড কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, স্পিডলাইট, কার্ড রিডার ও ব্যাটারির মতো আনুষঙ্গিক পণ্যগুলোতেও অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হয়েছে। সংসদে দীর্ঘ ২০ বছর যাবত কর্মরত এক ফটোগ্রাফারের মতে, এসব সরঞ্জাম কিনতে সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ব্যয় হওয়া যুক্তিযুক্ত ছিল।

এই ক্রয় প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিল কানিজ মাওলা নামের এক সচিব। এছাড়া আরো কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। টেন্ডারে স্পষ্ট করে লেখাও ছিল পণ্যগুলো যাতে জাপানিজ নিক্কন ব্র্যান্ডের কেনা হয়।

জানা গেছে কিছু পণ্য কেনা হয়েছে গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে আর কিছু জিনিসপত্র মগবাজার ইস্কাটন রোডের সঞ্জয় কুমার দাসের দোকান থেকে।

সাংবাদিকরা কানিজ মাওলাকে কল করেছিল। কিন্তু তার আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অভিযোগ বারবার উঠতেই থাকবে। একই সঙ্গে তারা বলেন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম হলে তা দেশের অর্থনীতি ও সুশাসনের জন্য উদ্বেগজনক।

এদিকে দেশে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যখাতে সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির মধ্যেই এই ধরনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ