ইসরাইলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্রতর: যুদ্ধ বন্ধ ও আগাম নির্বাচনের দাবিতে তেল আবিবে জনসমুদ্র

ইরান যুদ্ধের প্রভাব, ৭ অক্টোবরের জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ নাগরিকরা; দেশজুড়ে প্রতিবাদ বাড়ছে

by ABDUR RAHMAN
তেল আবিবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। শনিবার ও রোববার রাতে শহরের হাবিমা স্কোয়ারে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে যুদ্ধ বন্ধ, আগাম নির্বাচন এবং সরকারের জবাবদিহিতা দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন
banner

বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দেশকে একটি “অন্তহীন সংঘাতের” দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শুধু তেল আবিব নয়—ইসরাইলের বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে নেতানিয়াহু সরকারের যুদ্ধ পরিচালনা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তেল আবিবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক নাগরিক অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর সরকারের ভূমিকা এখনো স্পষ্ট নয়। তারা এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং জনগণের সামনে সত্য প্রকাশের দাবি জানান। অনেকেই মনে করেন, এই ব্যর্থতার দায় সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে।

একজন বিক্ষোভকারী বলেন, “নেতানিয়াহু সমাজকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছেন এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।” অন্যদিকে সামাজিক কর্মীরা জানান, এই যুদ্ধের কারণে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং পরিবারগুলো চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছে।

আরেকজন বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেন, ইরান ও লেবাননের সঙ্গে সংঘাতে ইসরাইল ভুল কৌশল নিয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক টিকে থাকার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ এই বিক্ষোভকে আরও তীব্র করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরাইলে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন বাড়ছে এবং অনেকেই এই সংঘাতের অবসান চান।

এদিকে, কিছু ক্ষেত্রে বিক্ষোভ দমনে পুলিশের কড়াকড়িও দেখা গেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত অজুহাতে কিছু বিক্ষোভ সীমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বিক্ষোভ শুধু যুদ্ধবিরোধী নয়—বরং এটি ইসরাইলের ভেতরে গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিফলন। সাম্প্রতিক জরিপ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বলছে, নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমছে এবং সামনে সম্ভাব্য নির্বাচনের আগে চাপ বাড়ছে।

এদিকে বিরোধীদলীয় নেতারা এই পরিস্থিতিকে সরকারের “সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ব্যর্থতা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরাইল বর্তমানে দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে—একদিকে সীমান্তে যুদ্ধ, অন্যদিকে দেশের ভেতরে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এই দুইয়ের সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, তেল আবিবের এই বিক্ষোভ কেবল একটি তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। যুদ্ধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এবং রাজনৈতিক সমাধান না এলে এই আন্দোলন আরও বড় আকার নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ