জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণে ব্যর্থ বিএনপি নেতৃত্ব—মামুনুল হক

by ABDUR RAHMAN

জুলাই বিপ্লবে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই সেই অবদানকে অস্বীকার করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী বক্তা মামুনুল হক।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ডিআরইউতে আয়োজিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
banner

মামুনুল হক বলেন, বিএনপির নেতারা ৫ আগস্টকে জুলাই বিপ্লবের অংশ হিসেবে স্বীকার করলেও ৬ আগস্ট থেকেই তারা এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিতে শুরু করেন। তার দাবি, শিক্ষার্থীসহ তরুণদের নেতৃত্বে এমন একটি আন্দোলন হবে—এটি বিএনপি নেতৃত্ব আগে কল্পনাও করেনি। তাই আন্দোলনের আকস্মিকতাকে স্বীকার করলেও পরে তারা এর বিরোধিতায় অবস্থান নেয়।

তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে বিএনপির বহু নেতাকর্মী জেল-জুলুম, গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। সেই ত্যাগের ধারাবাহিকতায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা উচিত। জনগণ যদি ক্ষমতার মালিক হয়, তাহলে গণভোটে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোটে বিজয়ী হওয়া জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে ‘ছিনিমিনি খেলা’ করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনা সভায় ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছিল, সেটিই ছিল জুলাই সনদ। নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক দলগুলো এই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও পরে তা থেকে সরে আসা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে নির্বাচন ও নির্বাচিত সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

সভায় সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গোলাম রহমান ভূঁইয়া বলেন, গণভোটে জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে মত দিলে তা বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। জুলাই সনদ সংবিধানের অংশ না হলে নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আলোচনা সভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক আহমেদ করিম, কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল হক এবং লেবার পার্টি বাংলাদেশের সভাপতি মহিউদ্দিনসহ অনেকে।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ