মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউর প্রতিরক্ষা ও মহাকাশবিষয়ক কমিশনার অ্যান্ড্রিয়াস কুবিলিয়াস বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং চলমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইউরোপের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ অবস্থায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
কুবিলিয়াস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে নিজস্ব সামরিক চাহিদা, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা এবং ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন প্রয়োজন—এই তিন দিকের চাহিদা একসঙ্গে সামাল দিতে চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ইউক্রেন নিয়মিত রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ছে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোও সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় উচ্চ সতর্কতা জারি রেখেছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ল্যান্ড-অ্যাটাক মিসাইল ও এসএম-থ্রি ইন্টারসেপ্টরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্রের মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পেন্টাগন সূত্র জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে গত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে এই ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে দ্রুত নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইইউর এই কমিশনার।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

