যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর এবার তার স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ-র মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে খামেনির কার্যালয় ও বাসভবনে হামলা চালানো হয়। প্রথমদিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরে ইরানি কর্তৃপক্ষ তা নিশ্চিত করে। ওই হামলায় তার মেয়ে ও নাতনিও নিহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ সময় গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২ মার্চ) তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ইরানের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র বরাতে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানায়, খামেনির ওপর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তার স্ত্রী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন এবং কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সোমবার (২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ইসরাইল ও সৌদি আরবের চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে।
স্যান্ডার্স লিখেছেন, “ইসরাইল ও সৌদি আরবের চাপেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় ৭২ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। পাশাপাশি সৌদি আরব একটি নির্মম একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সেখানে ভিন্নমতের কোনো স্থান নেই। এসব নেতারাই ইরানে ‘স্বাধীনতা’ আনতে চায়? কেউ কি সত্যিই এটা বিশ্বাস করে?”
উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
আর/

