কওমি মাদরাসায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের সংযোজন একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ : ফাতীহ মুহাম্মাদ সোলাইমান

by Master Fatih
কওমি মাদরাসায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের সংযোজন একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ : ফাতীহ মুহাম্মাদ সোলাইমান

সম্পাদকীয় :

কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। কুরআন-হাদিস, ফিকহ ও আরবি ভাষার গভীর অনুশীলনের মাধ্যমে এই ধারা সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ভিত্তি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখে আসছে। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিধি ও প্রয়োজনীয়তাও বদলেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাজধানীর জামিয়াতুত তারবিয়াহ আর ইসলামিয়ায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগ চালুর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন।

বিজ্ঞাপন
banner

কওমি মাদরাসায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের সংযোজন একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ :

একটি রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য কেবল নৈতিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন রাষ্ট্রব্যবস্থা, ইতিহাস, রাজনীতি ও সমাজগত বাস্তবতার সঠিক অনুধাবন। দীর্ঘদিন ধরে কওমি শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সীমিত সুযোগ পেয়ে আসছিলেন। ফলে জাতীয় ও রাজনৈতিক পরিসরে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। নতুন এ উদ্যোগ সেই শূন্যতা পূরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

ইতিহাসচর্চা একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণের মূল ভিত্তি। অতীতকে সঠিকভাবে জানা এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সুদৃঢ় হয়। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময় নানা ব্যাখ্যা ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। এ বাস্তবতায় বিকল্প গবেষণা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাস অনুধাবনের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কওমি অঙ্গনের শিক্ষার্থীরা যদি এ ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হন, তবে তা ইতিহাসচর্চায় বহুমাত্রিকতা ও ভারসাম্য আনতে সহায়ক হতে পারে।

কওমি মাদরাসায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের সংযোজন একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ :

রাষ্ট্রবিজ্ঞান শিক্ষার অন্তর্ভুক্তি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে। আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতি নির্ধারণ, শাসন কাঠামো এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা ছাড়া কোনো সমাজের নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান শিক্ষা কওমি শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে—এমন প্রত্যাশা করা যায়।

তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর। পাঠ্যক্রম কতটা মানসম্মত ও সমসাময়িক হবে, শিক্ষকদের দক্ষতা ও গবেষণার পরিবেশ কতটা নিশ্চিত করা যাবে—এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, এই শিক্ষা যেন জ্ঞানচর্চার প্রসার ঘটায় এবং গঠনমূলক চিন্তাকে উৎসাহিত করে, তা নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

সবশেষে বলা যায়, কওমি মাদরাসায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের সংযোজন একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ কেবল কওমি অঙ্গনেই নয়, বরং সামগ্রিক জাতীয় জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম—এমনটাই প্রত্যাশা।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ