রাজধানীতে জ্বালানি তেলের সংকট: জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায়ও মিলছে না জ্বালানি, কর্মঘণ্টা অপচয়ে জনজীবনে চরম ভোগান্তি

by Master Fatih
জ্বালানি তেলের সংকট পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল পাওয়ার অনিশ্চয়তা

অনলাইন ডেস্ক । হুদহুদ নিউজ

রাজধানীজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্র হয়ে উঠছে। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না নিশ্চয়তা। এতে প্রতিদিন অপচয় হচ্ছে শত শত কর্মঘণ্টা এবং স্থবির হয়ে পড়ছে নগরজীবনের স্বাভাবিক গতি।

banner

জ্বালানি তেলের সংকট পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল পাওয়ার অনিশ্চয়তা জ্বালানি তেলের সংকট পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, তেল পাওয়ার অনিশ্চয়তা

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। কেউ আগের রাত থেকে, কেউ ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তবুও তেল পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সংকট মোকাবেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ বা ওয়েবসাইট। নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ইউনিক কিউআর কোড পেয়ে নির্দিষ্ট পাম্প থেকে তেল নিতে পারছেন।
ফুয়েল পাসধারীরা সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকার তেল নিতে পারলেও সাধারণ ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন মাত্র ৫০০ টাকার জ্বালানি।

রায়েরবাজারের বাসিন্দা আতাউর রহমান ভোরে তেল নিতে বের হয়ে দীর্ঘ লাইনে আটকে পড়েন। ডিপো থেকে তেল না আসায় সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সরবরাহ শুরু হয়নি। পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে তেল দেওয়া শুরু হলেও তখনও তিনি লাইনে অপেক্ষায় ছিলেন।
তিনি জানান, ভোরে বের হলেও দুপুরেও কাজে যেতে পারবেন কি না তা অনিশ্চিত।

নীলক্ষেত, কাঁটাবন, ঢাকা কলেজ ও শাহবাগ এলাকায় একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। দীর্ঘ লাইনের কারণে সড়ক আংশিক দখল হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

লালবাগের বাসিন্দা মাইনুল হোসেন জানান, আগের দিনও তেল না পেয়ে আজ আবার লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকেই।

জ্বালানি তেলের সংকট

জ্বালানি তেলের সংকট

ঢাকা-গাজীপুর রুটের বাসচালক চাঁন মিয়া জানান, তেল না পাওয়ায় নিয়মিত বাস চালানো সম্ভব হচ্ছে না, আয়ও কমে গেছে।
অ্যাম্বুলেন্সচালক কামাল হোসেন বলেন, তেল সংকটে মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে দূরে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। কোথাও কোথাও সিএনজি সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা—বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে দেশে ডিপো থেকে তেল সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে জাতীয় উৎপাদনশীলতা কমে যাবে। পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরূল ইমাম বলেন, এই সংকট বৈশ্বিক সমস্যা। জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়াই এখন সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। পাশাপাশি অবৈধ মজুত বন্ধে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান তিনি।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ