সিসিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি : মঈন উদ্দিনসহ গ্রেপ্তার ৭

চিকিৎসক হেনস্তা ও অপারেশন থিয়েটারে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ; র‍্যাবের অভিযানে নড়াইল-ঢাকা থেকে আটক

by Master Fatih
সিসিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি : মঈন উদ্দিনসহ গ্রেপ্তার ৭

অনলাইন ডেস্ক । হুদহুদ নিউজ

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত (Center for Kidney Diseases and Urology) সিসিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজি ও চিকিৎসক হেনস্তার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে Rapid Action Battalion (র‍্যাব)।

বিজ্ঞাপন
banner

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার MZM Entekhabe Chowdhury। তিনি জানান, আলোচিত এই মামলার প্রধান অভিযুক্তসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

র‍্যাব জানায়, রোববার দিবাগত রাতে Narail ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মামলার মূলহোতা মঈন উদ্দিনকে নড়াইলের কালিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন—মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. স্বপন কাজী (৩৬) ও মো. শাওন হোসেন (২৫)।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালে প্রবেশ করে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা জোরপূর্বক অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে কর্মকর্তাদের হুমকি দেয়।

এ সময় হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ আবু হানিফকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার ঘটনাও ধরা পড়ে।

ঘটনার পরদিন শনিবার Sher-e-Bangla Nagar Police Station-এ মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওটি ইনচার্জ আবু হানিফ নিজেই মামলার বাদী।

হাসপাতাল সূত্র ও অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন নানা উপায়ে চিকিৎসককে হয়রানি করে আসছিলেন। তিনি জোরপূর্বক হাসপাতালের জন্য মেডিকেল সরঞ্জাম ও অন্যান্য পণ্য সরবরাহে চাপ দেন।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং হাসপাতালের কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মঈন প্রায়ই ৫০-৬০ জন লোক নিয়ে হাসপাতালের সামনে মহড়া দিতেন এবং চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতেন।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত করা বা চিকিৎসকদের ওপর অনৈতিক চাপ প্রয়োগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ