অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
ঈদের পর থেকেই দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো, ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুচরা বাজারে অধিকাংশ দোকানে ছোট বোতলের তেল পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও সীমিত পরিমাণে বড় বোতল মিলছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, কিছু কোম্পানি পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ কমিয়ে সরকারকে চাপ দিচ্ছে তেলের দাম বাড়ানোর জন্য। ইতোমধ্যে তারা প্রতি লিটার বোতলজাত তেলের দাম ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৭ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজার বিশ্লেষণে বর্তমান দামই যৌক্তিক, তাই দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে খোলা তেলের বাজারেও। সরকার নির্ধারিত ১৭৬ টাকার পরিবর্তে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ২০৫ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাম তেলের দামও একইভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানি থেকে তেল না পাওয়ায় তারা বাজারে সরবরাহ দিতে পারছেন না।
ক্রেতারা এ পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সেগুনবাগিচার এক ক্রেতা সাহেদা বেগম বলেন, “পাঁচটি দোকান ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। বাসায় তেল নেই—বিপদে পড়ে গেছি।” অন্যদিকে এক ব্যবসায়ী জানান, “দাম নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় কোম্পানি তেল দিচ্ছে না, অর্ডারও নিচ্ছে না।”
এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, “ইরান যুদ্ধের অজুহাতে কেউ যাতে অবৈধভাবে দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য তদারকি জোরদার করতে হবে।”
আর/

