বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’—সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিল ঘিরে মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন এনসিপি এমপি

by Master Fatih
সংসদ অধিবেশনে বিসিবি নিয়ে মন্তব্য করছেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক । হুদহুদ নিউজ

জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনার সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ আখ্যা দিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

বিজ্ঞাপন
banner

বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপনের অনুমতি চাইলে এতে আপত্তি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে কণ্ঠভোটে তার আপত্তি নাকচ হয়ে যায় এবং বিলটি সংসদে উত্থাপিত হয়।

বিলের বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-কে বোঝানো হয়েছে। একইসঙ্গে আইনের একটি উপধারায় ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তার মতে, এতে রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত সহিংস ঘটনাকে একইভাবে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বিভ্রান্তির কারণ হবে। তিনি জানতে চান, কোন ঘটনাকে ‘সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে—এটি নির্ধারণ করবে কে।

হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, বর্তমান কাঠামোতে মানবাধিকার কমিশন পুরোপুরি সরকার-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে এবং অতীতে এটি বিরোধী মত দমন ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে। তার মতে, এই কমিশনের ওপর নির্ভর করে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ বিচার সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এ সময় তিনি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণের অভিযোগ তুলে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিচার বিভাগ এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পড়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “বিসিবি এখন আর ক্রিকেট বোর্ড নেই, এটি বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়েছে।”

তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে গঠিত ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির বিষয়টিও উঠে আসে, যেখানে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বজনদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, এটি ‘জুলাই যোদ্ধাদের দাবি’ থেকে জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।

বিসিবি প্রসঙ্গে মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এই বিলের আলোচনায় ক্রিকেট বোর্ডের প্রসঙ্গ আনার যৌক্তিকতা নেই। তবে পূর্ববর্তী বোর্ড গঠন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সরকার একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী কমিশন গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে, যা দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, অতীতের বিভিন্ন পরিস্থিতি দেশের মানুষ অবগত রয়েছে এবং সরকার অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে যেতে চায় না।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ