আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হুদহুদ নিউজ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ভূ-রাজনীতিতে নতুন মোড় দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রণালীটি কার্যত সীমিত হয়ে পড়লেও এখন নির্দিষ্ট শর্তে কিছু জাহাজ চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে।
ইরান জানিয়েছে, যেসব দেশকে তারা ‘অ-শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করছে, সেসব দেশের জাহাজ যদি ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করে, তাহলে তাদের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না। মূলত খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি পণ্য সরবরাহ সচল রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব সহজেই এই প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করতে পারে। যদিও এর আগে তিনি এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের ওপরই ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট হওয়ার কথা থাকলেও তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কিছু জাহাজ বিকল্প উপায়ে প্রণালীটি অতিক্রম করছে। তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রী আব্দুল কাদির উরালোগলু জানিয়েছেন, তাদের মালিকানাধীন দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে নিরাপদে প্রণালী পার হয়েছে। এছাড়া পারস্য উপসাগরে থাকা আরও কয়েকটি তুর্কি জাহাজের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য কাজ চলছে।
ইরানের অনুমোদন নিয়ে চীন, ভারত এবং ইরান-সম্পৃক্ত জাহাজগুলো নিয়মিত চলাচল করছে। এমনকি একটি ফরাসি কন্টেইনার জাহাজও ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করে লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে নিরাপদে পার হয়েছে। অন্যদিকে ওমান-এর কয়েকটি জাহাজ বিকল্প উপকূলীয় পথ ব্যবহার করে যাত্রা সম্পন্ন করেছে। জাপান-এর একটি এলএনজি জাহাজও নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে।
আলোচনায় এসেছে পাকিস্তান-এর নামও। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তান অন্য দেশের জাহাজকে নিজেদের পতাকার অধীনে নিবন্ধন দিয়ে এই রুট ব্যবহারে সহায়তা করতে পারে। ইতোমধ্যে পাকিস্তানি পতাকাবাহী ২০টি জাহাজকে ইরান এই পথ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে হওয়ায়, এর আংশিক উন্মুক্তকরণকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এখনও প্রণালীটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। ইরান স্পষ্ট করেছে, জাহাজগুলোকে কঠোর নিয়ম মেনে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে হবে।
আর/

