যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিমালার প্রতিবাদে দেশজুড়ে তৃতীয় দফার ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) ওয়াশিংটন ডিসি, নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, বোস্টন, শিকাগো, হিউস্টন ও অন্যান্য বড় শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বৈরশাসক কার্যক্রমের বিরোধিতা করেছে।
বিক্ষোভের আয়োজকরা জানান, ইরানে যুদ্ধ, কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছেন।
আয়োজকদের ভাষ্যে, “ট্রাম্প আমাদের ওপর একজন স্বৈরশাসকের মতো শাসন করতে চান। কিন্তু এটি আমেরিকা, ক্ষমতার মালিক জনগণ—কোনো উচ্চাভিলাষী রাজা বা তার ধনকুবের বন্ধুদের হাতে নয়।”
রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে লিংকন মেমোরিয়াল সিঁড়ি ও ন্যাশনাল মল এলাকায় হাজারো মানুষ সমবেত হয়। তারা ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের কুশপুতুল প্রদর্শন করে অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি জানান। নিউ ইয়র্ক সিটির টাইমস স্কয়ারে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে রাস্তায় মিছিল করেছে, যেখানে পুলিশ ব্যস্ত রাস্তাগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
তবে কিছু স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। লস অ্যাঞ্জেলেসে দাঙ্গাকারীরা রয়্যাল ফেডারেল বিল্ডিং ঘেরাও করে কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে সিমেন্ট ব্লক ছুড়ে, যার ফলে দুজন কর্মকর্তা আহত ও দুজন গ্রেফতার হন। ডালাসেও পাল্টা-বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জনতাকে সরাতে নন-লেথাল ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে।
দেশের বাইরে প্যারিস, লন্ডন এবং লিসবনের মতো শহরেও প্রবাসী মার্কিনিরা ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। এই আন্দোলনের প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় মিলিয়নো মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। এবারও শিকাগো, বোস্টন, ন্যাশভিল ও হিউস্টনে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিনও মঞ্চে এসে অভিবাসন-বিরোধী গান পরিবেশন করেন।
হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র বিক্ষোভকে ‘ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট থেরাপি সেশন’ বলে উপহাস করেছেন। ট্রাম্প নিজেকে রাজা বা স্বৈরশাসক মনে না করার দাবিও করেছেন, কিন্তু সমালোচকরা তার পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক ও আমেরিকান গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।
আর/

