সৈন্য সংকটে ইসরায়েল, ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে আইডিএফ: সেনাপ্রধানের সতর্কবার্তা

জনবল ঘাটতি মেটাতে ব্যর্থ হলে বড় নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা, সরকারকে তীব্র সমালোচনা বিরোধীদের

by ABDUR RAHMAN

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই গুরুতর জনবল সংকটে পড়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সমাধান না হলে যেকোনো সময় বাহিনী ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার (২৭ মার্চ) এক নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বৈঠকে জামির বলেন, আইডিএফ অভ্যন্তরীণভাবে ধসে পড়ার আগেই তিনি একাধিক ‘লাল পতাকা’ বা সতর্ক সংকেত তুলে ধরেছেন। সামরিক সূত্রগুলোও জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের মধ্যে এই জনবল সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও পশ্চিম তীর সীমান্তে আরও বেশি সৈন্য প্রয়োজন হবে।

বিজ্ঞাপন
banner

সূত্রগুলো সতর্ক করে বলছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক নতুন সৈন্য নিয়োগ না হলে বিভিন্ন এলাকায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। বিশেষ করে হরেদি (অতি-অর্থডক্স ইহুদি) সম্প্রদায়ের সদস্যদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির জন্য এখনো কার্যকর কোনো আইন পাশ না হওয়ায় সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এর আগে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’-এর প্রাক্কালে সরকার একটি বিতর্কিত ড্রাফট আইন আনতে চেয়েছিল, যা হরেদিদের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের কথা বলছিল। তবে সমালোচকদের মতে, এটি মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং বাস্তবে নিয়োগ বাড়াতে কার্যকর হতো না। পরে যুদ্ধের শুরুতেই জাতীয় ঐক্যের কথা বলে এই বিল স্থগিত করা হয়।

সেনাপ্রধানের এই সতর্কবার্তার পর বিরোধী নেতারা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিরোধী নেতা ইয়ার ল্যাপিড বলেন, ভবিষ্যতে কোনো বিপর্যয় ঘটলে সরকার দায় এড়াতে পারবে না। অ্যাভিগডর লিবারম্যান সকল নাগরিকের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও সরকারের বিলম্বের সমালোচনা করেন।

অন্যদিকে সাবেক আইডিএফ প্রধান গাদি আইজেনকোট বলেছেন, সবার জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালু করা এখন সময়ের দাবি। বিশ্লেষকদের মতে, জনবল সংকট, বিতর্কিত নিয়োগ নীতি এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ