যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন যে, ইরানের হামলার জবাবে সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেবে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। তিনি এমনও বলেছেন যে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান নিজেই ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে চাইছেন এবং যুদ্ধের অংশ হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন।
তবে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) বৈঠকে আরব দেশগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না এবং তাদের ভূখণ্ড কোনো হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেবে না।
জিসিসি মহাসচিব আল-বুদাইওয়ি বৈঠক শেষে বলেন, “তেহরানকে হামলা বন্ধ করতে হবে—এই আশায় জিসিসি দেশগুলো কখনোই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা চাই কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হোক।”
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও কুয়েতের প্রধান তেল শোধনাগারগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু। তাই তেলের সরবরাহ শৃঙ্খল রক্ষা করা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
জিসিসি মহাসচিবের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, “ইরানের ওপর আন্তর্জাতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেওয়া যাতে তারা অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে হামলা বন্ধ করে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জিসিসির লক্ষ্য ইরানকে ধ্বংস করা নয়, বরং পারস্পরিক সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। পারস্য উপসাগরীয় পরিস্থিতি যদি অবনতি ঘটে, তার প্রভাব কেবল অঞ্চল নয়, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
এদিকে, জিসিসির সিদ্ধান্তে হতাশ ওয়াশিংটন ও তেল আবিব, যারা ইরানের জবাবি হামলায় আরব দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ আশা করেছিল। বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো হবে কূটনৈতিক ও আলোচনার মাধ্যমে, যাতে যুদ্ধের ঝুঁকি কমানো যায়।
আর/

