ইরান যুদ্ধে যেতে অনিচ্ছুক বহু মার্কিন সেনা, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্ক

যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সহায়তা সংস্থায় ফোন করছেন সেনাসদস্যরা

by ABDUR RAHMAN

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে অংশ নিতে অনিচ্ছুক অনেক মার্কিন সেনাসদস্য আপত্তি জানাচ্ছেন বলে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিবেকবান আপত্তিকারী’দের সহায়তা দেওয়া একটি অলাভজনক সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বহু সেনাসদস্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের কথা জানাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সেন্টার অন কনসায়েন্স অ্যান্ড ওয়ার’ নামের সংস্থাটির ফোন ইরান-সংক্রান্ত সম্ভাব্য সংঘাতে অংশ নিতে আপত্তি জানানো সেনাদের কলে প্রায় অবিরাম বেজে চলেছে। সংস্থাটি মূলত নৈতিক বা ধর্মীয় কারণে যুদ্ধ বা অস্ত্রধারণে আপত্তি জানানো ব্যক্তিদের সহায়তা করে।

বিজ্ঞাপন
banner

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মাইক প্রিসনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “ফোন অবিরাম বেজে চলেছে। সরকার জনসমক্ষে যা বলেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি সেনা ইউনিটকে মোতায়েনের জন্য সক্রিয় করা হয়েছে।”

তিনি জানান, সেনাদের ভেতর থেকে ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং আরও বৃহৎ সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। এদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কিছু সেনার নির্ধারিত একটি বড় প্রশিক্ষণ মহড়াও বাতিল করেছে, যা নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট যুক্তরাষ্ট্রে আবার বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বা ‘ড্রাফট’ চালুর সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেননি।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ দিকে বাধ্যতামূলকভাবে পুরুষদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানানোর একটি ঐতিহ্য রয়েছে। বিশেষ করে কোয়েকার ও অ্যামিশদের মতো কিছু খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে নৈতিক ও ধর্মীয় কারণে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে সমর্থন করার প্রবণতা দেখা যায়।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ