নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বিতর্কে রিজওয়ানা ‘রাজসাক্ষী’, জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জামায়াতের

ত্রয়োদশ নির্বাচনে ৫৩ আসনে অভিযোগের কথা জানিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা; খলিলুর রহমানের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ

by ABDUR RAHMAN

নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসানকে ‘রাজসাক্ষী’ দাবি করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে সাবেক দুই উপদেষ্টাকে ‘নতুন মীরজাফর’ বলেও আখ্যা দিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

বিজ্ঞাপন
banner

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে ইতোমধ্যে ৫৩টি আসনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে জামায়াত। এ বিষয়ে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “৫৩টি আসনে অফিসিয়ালি আমরা অভিযোগ দাখিল করেছি। সেই ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি লড়াই আমাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে।”

নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে একজন ‘রাজসাক্ষী’ পাওয়া গেছে এবং তিনি হলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, “গতকাল আমরা একজন রাজসাক্ষী পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষীর নাম সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা। তার বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, আমরা যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলছি সেটিই তিনি স্বীকার করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “সাবেক এই উপদেষ্টার কাছে আমরা জানতে চাই, নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তার সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত ছিলেন। পুরো অন্তর্বর্তী সরকার জড়িত ছিল, নাকি সরকারের একটি শক্তিশালী অংশ নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে?”

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন জামায়াতের এই নেতা।
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা কোনো দলীয় সরকারের অংশ হবেন না—এমন একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে তার আগের শপথের পরিপন্থী কাজ করেছেন।”

খলিলুর রহমানকে অভিযুক্ত করে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “খলিলুর রহমান ছিলেন লন্ডন কনস্পিরেসির প্রধান হোতা। সেখান থেকে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে মোটিভেট করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করেছেন। সেই কাজের পুরস্কার হিসেবেই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ পেয়েছেন।”

জামায়াতের দাবি, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সাবেক এই উপদেষ্টারা জাতির সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষাকে ভণ্ডুল করে দিয়েছে। তারা বাংলার নতুন মীরজাফর। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযুক্ত এই দুই সাবেক উপদেষ্টাকে আইনের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।”

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ