হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম–এর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস চৌধুরী তুষার–কে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ডিবি পুলিশ জেলা শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় তার বাসা থেকে তাকে আটক করে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আঁখি রাণী দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতির একটি ফোনকল তিনি ধরতে পারেননি। পরে অন্য একজনের ফোন থেকে তাকে কল করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। একপর্যায়ে বলা হয়, “বাহুবলে চাকরি করতে হলে তাকে জিজ্ঞেস করেই করতে হবে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে ফেরদৌস চৌধুরী তুষার বলেন, তিনি সরাসরি ওসিকে কল দিয়েছেন—এমন প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। তিনি এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা, মাদক ও জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ আছে। প্রশাসন চাইলে এসব বিষয় তদন্ত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জানা গেছে, সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও গত সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মখলিছুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন ওসি সাইফুল ইসলাম। এ সময় মখলিছুর রহমানের পাশে থাকা অবস্থায় উত্তেজিত হয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসিকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অডিওতে একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “বাহুবলে ওসিগিরি করতে হলে আমাকে জিজ্ঞেস করেই করতে হবে।”
অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই রোববার দুপুরে ডিবি পুলিশ তাকে নিজ বাসা থেকে আটক করে।
আর/

