মুফতী শহীদুল ইসলাম
রাকিব ভায়ের সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় দেড় দশক হতে চলেছে। বাড়ি নরসিংদী হলেও ঢাকার মুহাম্মাদপুরে আবাস গেড়েছেন অনেক আগে থেকে। একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবে মুহাম্মাদপুর বসিলায় প্রতিষ্ঠা করেছেন ফজলুর রহমান আইডিয়াল স্কুল। এলাকায় দ্বীনের আলো ছড়াতে প্রতিষ্ঠা করেছেন কওমী মাদ্রাসা। পাশাপাশি তিনি একজন উদ্যোক্তা। শিয়া মসজিদ সংলগ্ন মার্কেটে ব্যবসার মাধ্যমে তিনি এ পথে পা রেখেছিলেন।
তবে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন সফল সংগঠক। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঢাকা মহানগর যুব মজলিসের সভাপতি এবং পাশাপাশি কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছেন।
আমিরে মজলিস নির্বাচনী সভায় যেভাবে তার উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা করেছেন এটা রাকিব ভাইয়ের জীবনে অন্যতম প্রাপ্তি হিসেবে থাকবে। তিনি দায়িত্বশীলদের আস্থার জায়গায় এসেছেন, অবশ্য এইজন্য তাকে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করতে হয়েছে। ২০২১ সালে মোদিবিরোধী আন্দোলনের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ প্রতিকূল হয়ে যায়। আমীরে মজলিস ওতৎকালীন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি গ্রেফতার হন। অনেকের উদ্যম ও তৎপরতায় তখন ঝিমুনি চলে আসলেও যে ক’জন ব্যতিক্রম ছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন রাকিব ভাই। মুক্তির আন্দোলনে তিনি অগ্রগামী ভূমিকা রেখেছেন। তার মত দৃঢ়চেতা মনোভাবের গুণ অনেক অভাব। তিনি নির্বাচিত হলে ইনশাআল্লাহ একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক নির্বাচিত হবেন।
রাকিব ভাই যে এলাকায় নির্বাচন করছেন সেখানে তিনি আলেম হিসেবে হয়তো অতটা পরিচিত নন। বড় কোন মাদ্রাসার মুহতামিমও নন। আমিরে মজলিস তার এলাকায় যে সময়টাতে প্রোগ্রাম করেছেন তা ছিল সকালবেলা। তারপরও উপস্থিতি দেখেই বোঝা যায় তিনি এলাকায় মানুষদেরকে সংগঠিত করতে কতটুকু মেহনত করেছেন। আমীরে মজলিসের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এমনই। তিনি মাদ্রাসা নির্ভর না হয়ে, সাধারণভাবে মানুষদেরকে সংঘটিত করার পলিসিতে বিশ্বাসী। তার হাতে গড়া দায়িত্বশীলরাও সে পথেই অগ্রসর হচ্ছেন। আশা করি ভবিষ্যতে দ্বীনি এবং জেনারেল এই দুই শ্রেণীর সমন্বিত ইসলামী আন্দোলন এ দেশে ইসলামের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার ঝান্ডা উঁচু করবে।

