সাগর-রুনি হত্যায় নতুন ক্লু, এবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেবে পরিবার

নতুন ক্লুর পর আশাবাদী ছেলে মেঘ ও ভাই রোমান; সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক ব্যক্তির যোগসূত্রের কথা জানিয়েছেন প্রধান কৌঁসুলি

by ABDUR RAHMAN
ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেবে পরিবার

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৪ বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার শেষ হয়নি। এবার মামলাটির বিচারের আশায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের পরিবার।

বিজ্ঞাপন
banner

সোমবার (৩১ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালে অভিযোগটি জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সাগর-রুনির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ ও রুনির ভাই নওশের আলম রোমান।

এর আগে রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম জানান, অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনার সময় সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন ব্যক্তির যোগসূত্রের সূত্র পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

এই বক্তব্যের পরই ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান সাগর-রুনির পরিবারের সদস্যরা।

রোববার বিকেলে এ বিষয়ে কথা বলতে প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়ে যান মেঘ ও রোমান। পরে মেঘ বলেন, দীর্ঘদিন পর তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসায় তিনি মামলাটির বিচার নিয়ে আশাবাদী। তবে তিনি চান, প্রকৃত দোষীদেরই বিচারের আওতায় আনা হোক।

মেঘ বলেন, “আমি চাই যথাযথ বিচারটা হোক। আমি চাই না, কোনো ভুল মানুষ কোনোভাবে এতে অন্তর্ভুক্ত হোক।”

রুনির ভাই নওশের আলম রোমানও মামলাটির একটি চূড়ান্ত ফল চান। তিনি বলেন, কারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তা যেন প্রকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সামনে আসে এবং কোনো ধরনের গল্প বা অনুমানের ওপর বিষয়টি নির্ভর না করে।

দীর্ঘদিনের তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে রোমান বলেন, আদালতের নির্দেশে নতুন টাস্কফোর্স গঠিত হলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, টাস্কফোর্সের তদন্ত কার্যক্রমও অনেকটা আগের অবস্থাতেই রয়েছে।

এ সময় র‍্যাবের হাতে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্তেও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের মুক্তির দাবিও জানান রোমান। পাশাপাশি তদন্তে নতুন করে যাদের নাম আসছে, তারা যাতে দেশ ছেড়ে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাগর-রুনি হত্যা মামলার পরিবারের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা আবেদন এলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন হত্যাকাণ্ড, নাকি এর পেছনে ব্যাপক বিস্তৃত বা পদ্ধতিগত কোনো অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে, তা সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা সম্ভব।

অভিযোগটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে পড়লে সেটি গ্রহণ করা হবে। আর এখতিয়ারের বাইরে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত বর্তমানে একটি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই তদন্তের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা নেই বলেও জানিয়েছেন প্রধান কৌঁসুলি।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।

হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় সাড়ে ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলাটির তদন্ত ও বিচার শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা এ মামলায় নতুন ক্লুর কথা সামনে আসায় এবার বিচারের বিষয়ে নতুন করে আশার কথা জানিয়েছেন নিহত দম্পতির পরিবারের সদস্যরা।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ