‘দ্রব্যমূল্য-লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে নিজেদের ব্যর্থতার দায় অতীতের ওপর চাপানো যাবে না’: চরমোনাই পীর

লোডশেডিং কমানো ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান; আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্র সংস্কার নিয়েও সরকারের সমালোচনা

by ABDUR RAHMAN
‘দ্রব্যমূল্য-লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে নিজেদের ব্যর্থতার দায় অতীতের ওপর চাপানো যাবে না

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

দেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে এবং এ সংকট মোকাবিলায় সরকার কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

বিজ্ঞাপন
banner

তিনি অভিযোগ করেন, নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তারা অতীতের সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে বর্তমান সরকারের নিজের দায়িত্ব ও ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীতে দলের পৃথক দুটি কর্মসূচিতে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। বিকেল ৪টায় পল্টনের আইএবি মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের ২০২৭-২৮ সেশনের নবগঠিত কমিটির শপথ অনুষ্ঠানে এবং এর আগে বিএমএ মিলনায়তনে আয়োজিত জেলা প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি বক্তব্য দেন।

চরমোনাই পীর বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পার করলেও জাতীয় সংকট মোকাবিলায় এখনো কার্যকর ও টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারেনি। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দাবি করেন তিনি।

লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ সংকট মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়ছে। তাই দ্রুত জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং লোডশেডিং কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ যদি সীমা অতিক্রম করে, তার দায় সরকারকেই নিতে হবে।

দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তিনি দাবি করেন, গত ছয় মাসে শুধু তৈরি পোশাক খাতেই প্রায় ২০ হাজার মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। কর্মসংস্থানের এই সংকট দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন বলে তিনি যে তথ্য তুলে ধরেছেন, তা জননিরাপত্তার নাজুক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

তার অভিযোগ, পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং রায় কার্যকর না হওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে না। জনগণের প্রত্যাশা ছিল অপরাধ সংঘটনের আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হবে। কিন্তু সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেই মাত্রায় কার্যকর করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি।

চরমোনাই পীর বলেন, মাদকের বিস্তারে দেশের ছাত্র ও যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এর ফলে দেশ নীতি-নৈতিকতাহীন ও অমানবিক সমাজব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্র সংস্কার নিয়েও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান হতাশাজনক।

জুলাই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্যের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সরকার তা অনুসরণ করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বরং সংস্কারের প্রশ্নে সরকার উল্টো অবস্থান নিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

তার ভাষ্য, অতীতে সাংবিধানিক কাঠামো ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই দেশে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাই জুলাই সনদের আলোকে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তির পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা জরুরি।

সময়মতো সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে, তার দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

ইসলামী আন্দোলনের আমির দলের নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতা জনগণের সামনে তুলে ধরার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, জনস্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মেনে নেবে না। দেশের স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হলে তার দায়ভারও সরকারকেই বহন করতে হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তরের নবগঠিত কমিটির শপথ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর উত্তরের সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ। সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন এবং ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর উত্তরের নবগঠিত কমিটির নেতারা শপথ নেন। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং সেক্রেটারি হিসেবে মাওলানা নুরুল ইসলাম নাঈম দায়িত্ব পেয়েছেন। বিভিন্ন পদে আরও একাধিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ