বন্যা-ভূমিধসে তাণ্ডবের পরও ৮ দেশের উদ্ধার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেপালের, চায় আর্থিক সহায়তা

ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের প্রস্তাব আপাতত নাকচ; নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতায় আস্থা কাঠমান্ডুর

by ABDUR RAHMAN
বন্যা-ভূমিধসে তাণ্ডবের পরও ৮ দেশের উদ্ধার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান নেপালের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল আপাতত বিদেশি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের সহায়তা গ্রহণ করছে না। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে কাঠমান্ডু।

বিজ্ঞাপন
banner

গত বুধবারের আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হলো চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলা। প্রবল পানির স্রোত ও ধ্বংসাবশেষে জেলার ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও। দুর্যোগে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মানুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বিদেশি নাগরিকসহ এখনো ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ নেপালকে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মুহূর্তে বিদেশি উদ্ধারকারী দলের প্রয়োজন দেখছে না সরকার।

শুক্রবার নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেন, দুর্যোগের পর বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে সহায়তার প্রস্তাব আসা স্বাভাবিক। তবে বর্তমানে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোই অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের সক্ষমতা ও কার্যকারিতার ওপর সরকারের আস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সহায়তার প্রস্তাব আসা স্বাভাবিক। আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। আপাতত এ ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নেই।’

তবে এর অর্থ এই নয় যে নেপাল কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক সহায়তা নিতে চাচ্ছে না। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আর্থিক এবং অন্যান্য সহায়তা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ নেপালকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। আরও কিছু দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তল্লাশি, উদ্ধার, পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্থিক সহায়তার জন্য তহবিলের আবেদনও জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, বিদেশি উদ্ধারকারী দল না নেওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার একটি র‍্যাপিড রেসপন্স টিম কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছে। নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত দক্ষিণ কোরিয়ার নয়জন নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের সন্ধানে সিউল উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া একই সঙ্গে ত্রাণবাহী দল পাঠানোর আগ্রহও জানিয়েছে। তবে নেপাল সরকারের অনুমতি না থাকায় দলটি এখনো উদ্ধার অভিযানে মোতায়েন হয়নি।

বিদেশি উদ্ধারকারী দল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেপালের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রসুয়া জেলা চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হওয়ায় সেখানে বিদেশি উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জাতিসংঘে নেপালের সাবেক রাষ্ট্রদূত দিনেশ ভট্টরাই রয়টার্সকে বলেছেন, রসুয়া জেলার স্পর্শকাতর ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়েই সরকার হয়তো বিদেশি উদ্ধারকারী দল গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে চীনের সীমান্তসংক্রান্ত কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বিষয় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছেন, বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন একেবারেই নেই—বিষয়টি এমন নয়। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম বলেই আপাতত বিদেশি উদ্ধারকারী দল নেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজন দেখা দিলে ভবিষ্যতে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হতে পারে।

নেপালের ভয়াবহ এই দুর্যোগে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোর ক্ষতি উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এর মধ্যেই নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে নেপাল সরকার।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ