অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জাতীয় সংসদের ভেতরে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ না থাকা এবং সহকর্মী সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে অকথ্য ভাষা শোনার তীব্র অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বক্তব্য শেষে সংসদীয় সৌজন্য না মেনে অশালীন আচরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে সাজানো বিরোধী দল হিসেবে শুধু প্রস্তাবের বিপক্ষে ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য সংসদে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল’-এর ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এসব ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
এর আগের দিন বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিলটি নিয়ে আলোচনার সময় সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যদের প্রবল আপত্তির মুখে পড়েন রুমিন ফারহানা। সেই সময় সংসদে ব্যাপক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
পরদিন সেই ঘটনার রেশ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংসদে যেকোনো বক্তব্যের বিরোধিতা করার গণতান্ত্রিক অধিকার সবার রয়েছে। তবে তা নিয়মানুযায়ী দাঁড়িয়ে কিংবা বক্তব্য সমাপ্ত হওয়ার পর বলা যেত। কিন্তু তাঁর বক্তব্য শেষে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে, তা কোনো সুস্থ গণতান্ত্রিক দেশের সংসদীয় শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।
নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে এই আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, তাঁর বক্তব্যের পর সংসদ ভবনের ভেতরেই একদম পাশের সারির কয়েকজন সংসদ সদস্য তাঁকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত জঘন্য ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের একাদশ সংসদের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সেই সংসদে যখন তিনি বিএনপির পক্ষে একাকী লড়াই করেছিলেন, তখনও তাঁকেই এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। হাজারও মানুষের আত্মত্যাগের পর ভোটের মাধ্যমে অর্জিত নতুন সংসদেও যদি কোনো গুণগত পরিবর্তন না আসে, তবে এমন সংসদীয় ব্যবস্থার কোনো মূল্য থাকে না।
রুমিন ফারহানার এমন ক্ষোভ ও অভিযোগের প্রেক্ষাপটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। অতীতের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত দিনের অপ্রীতিকর ঘটনা পেছনে ফেলে এখন সবাইকে সতর্ক হতে হবে। আগামীতে সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যরা বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে নিজেদের সংযত রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন স্পিকার।

