অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
সরকারের বিশেষ উদ্যোগে উত্তরাঞ্চলের প্রায় আড়াই লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক দীর্ঘদিনের কৃষিঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সরকারের অর্থায়নে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কৃষিঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
রাকাবের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার জাহিদ জানান, দেশের প্রথম বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে রাকাব। এর আওতায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ নেওয়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের মূল অর্থ এবং বকেয়া সুদ পরিশোধ করা হয়েছে।
সরকারের অর্থায়নে মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৮০টি কৃষক পরিবার এই সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে রংপুর বিভাগের আট জেলার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৫টি কৃষক পরিবারের ১৭৮ কোটি ৯২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা এবং রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ৫০ হাজার ৬৫৫টি কৃষক পরিবারের ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার টাকার কৃষিঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাকাবের আরেকটি তথ্য অনুযায়ী, ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৩৩ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ঋণের আসল ও সুদ মওকুফের জন্য সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ব্যাংকটিকে ২২৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা প্রদান করেছে। নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকার বেশি ঋণ এ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিনের ঋণের চাপ থেকে মুক্ত হওয়ায় কৃষকেরা নতুন করে কৃষিকাজে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাকাব জানিয়েছে, কৃষকদের কল্যাণে সরকারের এ উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নে নির্ধারিত সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের পাশে থেকে দেশের কৃষি উন্নয়নে অবদান রাখার অঙ্গীকার করেছে ব্যাংকটি। একই সঙ্গে অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকেও কৃষকদের বকেয়া ঋণ ও সুদ মওকুফের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।
নির্বাচনের আগে গত বছরের ২৯ জুন রাজশাহীর এক জনসভায় বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে সরকার গঠনের পর ২৬ ফেব্রুয়ারির প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ উদ্যোগ অনুমোদন করা হয়।
কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের চাপ কমলে উৎপাদন ব্যয় সামাল দেওয়া সহজ হয় এবং নতুন মৌসুমে চাষাবাদে বিনিয়োগের সক্ষমতা বাড়ে। ফলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। পাশাপাশি কৃষিঋণ পুনঃপ্রবাহ বাড়লে ব্যাংকিং খাতেও কৃষকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
আর/

