হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও পিছিয়েছে, নতুন তারিখ ২০ আগস্ট

১৮তম বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়াল আদালত; ডিবির চার্জশিটে অসন্তোষের পর পুনঃতদন্ত করছে সিআইডি।

by ABDUR RAHMAN
হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আবারও পিছিয়েছে

অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ আগামী ২০ আগস্ট নির্ধারণ করেন। এ নিয়ে মামলাটিতে ১৮তম বারের মতো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পিছিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

আদালত সূত্র জানায়, এদিন অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।

এর আগে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ডিবি পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রের (চার্জশিট) বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে সিআইডি।

গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ মামলায় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

অভিযোগপত্রে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তাঁর বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু, মো. ফয়সাল, আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ, তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ ও জেসমিন আক্তারকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন এখনও পলাতক।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জুমার নামাজ ও নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।

মামলার তদন্ত বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আর/

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ