অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনই বিদেশি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর নিহতদের জাতীয়তা ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সাতজন যুক্তরাজ্যের, তিনজন বেলজিয়ামের, একজন ফ্রান্সের এবং একজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। নিহতদের মধ্যে একমাত্র স্পেনের নাগরিক ছিলেন একজন। সরকারি সংস্থা জানিয়েছে, নিহত ১৩ জনের মধ্যে আটজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ এবং সবাই প্রাপ্তবয়স্ক।
গত বৃহস্পতিবার ভূমধ্যসাগর উপকূলসংলগ্ন আলমেরিয়া প্রদেশে দাবানলের সূত্রপাত হয়। এলাকাটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিক বসবাস করেন। প্রচণ্ড বাতাস এবং তীব্র তাপপ্রবাহে শুকিয়ে যাওয়া বনাঞ্চল ও ঝোপঝাড়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকটি গ্রামীণ এলাকা সম্পূর্ণ জনশূন্য হয়ে যায়।
দাবানলের শুরুতে উদ্ধারকারী দল ১২টি মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহগুলো এতটাই দগ্ধ ছিল যে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার আশ্রয় নিতে হয়। পরে সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ জন।
কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা, সড়কের ওপর একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়া থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর (প্রায় ১৭ হাজার একরেরও বেশি) বন ও জমি পুড়ে গেছে।
বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গত রোববার থেকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রায়ই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকায় দাবানল দ্রুত বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
ইউরোপীয় বন অগ্নিকাণ্ড তথ্য ব্যবস্থার (EFFIS) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে স্পেনে দাবানলে ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহ ও দাবানলের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
আর/

