ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে ন্যায্য ভাড়া ও হাফ পাসের দাবিতে ছাত্র ঐক্যের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ৪ অক্টোবর বিক্ষোভ, ৫ অক্টোবর গণস্বাক্ষর ও ৬ অক্টোবর সড়ক অবরোধের ঘোষণা

by Master Fatih
ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে ন্যায্য ভাড়া ও হাফ পাসের দাবিতে ছাত্র ঐক্যের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা নির্ধারণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিঃশর্ত হাফ পাস চালুর দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে পরিবহন সিন্ডিকেট বিরোধী ছাত্র ঐক্য। আগামী ৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না হলে ধারাবাহিক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন
banner

বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র ঐক্যের পক্ষ থেকে এসব দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগরের মো. নাজমুল হুদা রনি।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করে। এর পর ২২ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করে।

ছাত্র ঐক্যের অভিযোগ, সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই ২২ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে উৎসব ও বন্ধন পরিবহন ৫৫ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা করে ভাড়া আদায় শুরু করে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও ৪০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করে।

তাদের আরও অভিযোগ, এ বিষয়ে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে ভাড়া বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন।

ছাত্র ঐক্য বলছে, শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কোনো দয়া নয়, এটি তাদের অধিকার। তাদের দাবি, নারায়ণগঞ্জে ২০২৫ সালের আগস্টে জেলা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির সভায় সপ্তাহের সাত দিন শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, ৫৫ টাকা ভাড়ার অর্ধেক ২৭ টাকা ৫০ পয়সা হলেও তারা শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়া মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবহন ভাড়া ও হাফ পাসের দাবিতে সাতটি ছাত্র সংগঠন একসঙ্গে আন্দোলনে নেমেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, জাতীয় ছাত্রশক্তি, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ছাত্র মজলিস, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা।

তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংগঠনগুলোর আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও বাসভাড়া ও শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের প্রশ্নে তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।

ছাত্র ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রশাসন, বিআরটিএ ও পরিবহন মালিক সমিতিকে সময় দেওয়া হয়েছে।

দাবি বাস্তবায়নের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না হলে ৪ অক্টোবর বিক্ষোভ মিছিল, ৫ অক্টোবর গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এবং ৬ অক্টোবর সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

ছাত্র ঐক্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ৬ অক্টোবর থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখার কথা জানিয়েছে।

ছাত্র ঐক্যের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে নন-এসি বাসের ভাড়া সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা নির্ধারণ ও কার্যকর করা।

শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহের সাত দিন যেকোনো সময় পরিচয়পত্র দেখিয়ে ৫৫ টাকার অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ভাড়া নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

এ ছাড়া প্রতিটি বাস ও কাউন্টারে ভাড়া এবং হাফ পাসের নোটিশ টানানো, ভাড়া উল্লেখ করা টিকিট বা রসিদ দেওয়া, ভাড়া নির্ধারণের ব্যয়-বিশ্লেষণ ও রুটের দূরত্ব-টোলের হিসাব প্রকাশ এবং জ্বালানির দাম কমলে ভাড়া সমান হারে কমানোর দাবি জানিয়েছে ছাত্র ঐক্য।

ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাস দৃশ্যমানভাবে পুনরায় চালু ও সংখ্যা বাড়ানো এবং ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ পথে রেলের সংখ্যা ও বগি বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়েছে।

ছাত্র ঐক্যের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের আন্দোলন পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নয়। ন্যায্য ভাড়া ও শিক্ষার্থীদের হাফ পাসের অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ