কাবা শরিফের সুরক্ষায় আল্লাহই যথেষ্ট, ক্ষতিকারীরা নিজেরাই ধ্বংস হয়: ড. ইদরিস নদভি

লখনৌতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেমের দারস: হারামাইন শরিফাইনের সুরক্ষা ও সেবায় ইসলামের ঐতিহাসিক ও আধুনিক ভূমিকা তুলে ধরলেন ড. ইদরিস নদভি

by ABDUR RAHMAN
কাবা শরিফের সুরক্ষায় আল্লাহই যথেষ্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ

আল্লাহ তাআলা তাঁর বিশ্বজনীন ঘর পবিত্র কাবা শরিফের একমাত্র রক্ষক। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পৃথিবীর বুক থেকে বায়তুল্লাহর অস্তিত্ব মুছে ফেলা কিংবা এর মর্যাদা বিনষ্ট করার চক্রান্তে যারাই মেতেছে, তারা শেষ পর্যন্ত নিজেরাই ইতিহাসের খলনায়ক হিসেবে ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

ভারতের লখনৌর বিখ্যাত ইবরাহিমি আগা মীর মসজিদে অনুষ্ঠিত এক উচ্চমার্গের ‘দারসুল কোরআন’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বিশিষ্ট গবেষক, লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও অল ইন্ডিয়া মুসলিম ইন্টেলেকচুয়াল সোসাইটির সম্পাদক ড. মুহাম্মদ ইদরিস নদভি।

সূরা আলে ইমরানের ৯৬ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. নদভি বলেন, “কাবাতুল্লাহ কেবল পাথর বা দালানের কোনো অবকাঠামো নয়; এটি পৃথিবীর ইতিহাসে মানবজাতির ইবাদতের জন্য নির্মিত সর্বপ্রথম ঘর। এটি গোটা উম্মাহর জন্য ঐক্যের প্রতীক, হেদায়াতের আলোকবর্তিকা এবং অভয়ারণ্য।”

বক্তব্যে তিনি কাবা শরিফের সুরক্ষায় আল্লাহর অলৌকিক কুদরতের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেন। প্রাচীনকালে বিশাল হস্তীবাহিনী নিয়ে আসা আবরাহার অহংকার যেভাবে ক্ষুদ্র আবাবিল পাখির কনকনে পাথরের আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ হয়েছিল, কিংবা হাজরে আসওয়াদ চুরি করে নিয়ে যাওয়া কুরামিতাহ গোত্র যেভাবে নিশ্চিহ্ন হয়েছিল—তা বিশ্ববাসীর জন্য চিরন্তন শিক্ষা বলে তিনি মনে করিয়ে দেন।

ড. ইদরিস নদভি আরও বলেন, প্রতিবছর কাবা ও মসজিদে নববিতে আগত কোটি কোটি জিয়ারতকারীর সেবায় সৌদি কর্তৃপক্ষের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রশংসনীয়। বিদ্যুৎ, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, জমজমের সুপেয় পানি বণ্টন, চিকিৎসা সেবা ও ভিড় ব্যবস্থাপনায় যে অভাবনীয় আধুনিকায়ন করা হয়েছে, তা আল্লাহর মেহমানদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনেরই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুসলিম উম্মাহ যখন এক কিবলার দিকে মুখ করে নামাজে দাঁড়ায়, তখন জাতি-বর্ণের বিভেদ ভুলে ইসলামের মূল বার্তা ‘তাওহিদ’ ও ‘ভ্রাতৃত্ববোধ’ বিজয়ী হয়। তাই পবিত্র হারামাইন শরিফাইনের সার্বিক সম্মান রক্ষা ও যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যৌক্তিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রত্যেক মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে লখনৌ শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, নারী-পুরুষ এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম ইন্টেলেকচুয়াল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ড. আম্মার আনিস নদগ্রামিসহ অনেকে অংশ নেন। মোনাজাতে বিশ্বের সকল নিপীড়িত মানুষের শান্তি এবং পবিত্র হারামাইনের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ আকুতি জানানো হয়।

banner

এ জাতীয় আরো সংবাদ