অনলাইন ডেস্ক | হুদহুদ নিউজ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য রোকেয়া বেগম। তিনি বলেছেন, দুই বছর পেরিয়ে গেলেও মাত্র সাতটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর বিচার শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগছে কেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রোকেয়া বেগম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শহীদরা দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার জন্য জীবন দিয়েছেন। ভবিষ্যতে যেন কোনো নতুন ফ্যাসিস্ট শক্তির উত্থান না ঘটে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে।
নিজের ছেলে শহীদ জাবির ইব্রাহীমকে স্মরণ করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় মাত্র ছয় বছর বয়সী জাবির সেনা কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখত। লং মার্চে যাওয়ার আগে তার বলা শেষ কথাগুলো এখনো পরিবারের সদস্যদের মনে গেঁথে আছে।
তিনি বলেন, হয়তো শহীদ হওয়ার অনুভূতি থেকেই শিশুটি এমন কথাগুলো বলেছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কোনো ধরনের কটাক্ষ বা অবমাননার চেষ্টা সফল হবে না উল্লেখ করে রোকেয়া বেগম বলেন, শহীদরা অপমান সহ্য করার জন্য জীবন দেননি। তারা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।
বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, গত দুই বছরে মাত্র সাতটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বাকি মামলাগুলোর বিচার শেষ হতে এত দেরি হচ্ছে কেন—এ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন। তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করে শহীদ পরিবার ও আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা।
আর/

